কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: সামনেই বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব। জোরকদমে চলছে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি। আলোর সাজ, ঢাকের বাদ্যি, থিমের প্যান্ডেল সব মিলিয়ে উৎসবের কয়েকটা দিন শহর যেন আরও বেশি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এরই মধ্যে দুর্গাপুজোয় টাকা নিয়ে VIP পাস বা টিকিট বিক্রির প্রথা বন্ধ করার বার্তা দিল পশ্চিমবঙ্গ দুর্গাপুজো সমন্বয় সমিতি। বুধবার কলকাতার প্রেস ক্লাবে প্রথম সাংবাদিক বৈঠকে সমিতির তরফে জানানো হয়, অর্থের বিনিময়ে কাউকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে পুজোর দর্শন করানোর ব্যবস্থা তারা সমর্থন করছে না। পুজো সকলের জন্য, এই বার্তাই সামনে রাখা হয়েছে।
সমিতির সভাপতি রুদ্রনীল ঘোষ জানান, তাঁদের সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনও VIP পাস বা টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়নি। তাঁর বক্তব্য, VIP সুবিধার প্রয়োজন মূলত সেই প্রবীণ বা অসুস্থ মানুষদের, যাঁদের ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে মণ্ডপে প্রবেশ করা কঠিন। তাই অর্থের বিনিময়ে VIP পাস বিক্রির পরিবর্তে তাঁদের মতো মানুষের সুবিধার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। পুজো উদ্যোক্তাদের কাছে একটাই অনুরোধ সকলকে সমানভাবে প্রতিমা দর্শনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক।
সমিতির অন্যতম উপদেষ্টা প্রীতম সরকারও স্পষ্ট করেন, VIP পাস পুরোপুরি তুলে দেওয়া হচ্ছে কি না, সেটি তাঁদের সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। তবে টাকা নিয়ে VIP পাস বা টিকিট বিক্রি বন্ধ করার বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, অর্থের বিনিময়ে পাস কিনে দুর্গাপ্রতিমা দর্শনের ব্যবস্থা বন্ধ হওয়া উচিত। একই সঙ্গে ছোট-বড় পুজোর মধ্যে কোনও পার্থক্য না রাখার কথাও জানিয়েছে সমিতি। কলকাতা এবং জেলার পুজোগুলিকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। পুজোকে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের বৈষম্য না রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে পুজো কমিটিগুলির কাছে।
অন্যদিকে, পুজোপ্রেমীদের জন্য একটি ওয়েবসাইটও চালু করেছে সমিতি। সেখানে বিভিন্ন পুজোর খবর, আপডেটের পাশাপাশি কলকাতা ও জেলার একাধিক পুজোর লাইভ স্ট্রিমিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। ইতিমধ্যেই কয়েকশো পুজো এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এবং আগামী দিনে আরও পুজোকে যুক্ত করা হবে বলে খবর।
সম্প্রতি, দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির নামে আর্থিক তজরুপে অভিযোগে তৃণমূল প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে মঙ্গলবার দীর্ঘ তল্লাশি চালায় ইডি। সাতসকালে মন্ত্রীর কলকাতার কসবার বাড়িতে হানা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাড়ি, হিন্দুস্তান পার্কে তাঁর আত্মীয়ের বাড়ি এবং হাইল্যান্ড পার্কের এক ইভেন্ট ম্যানেজারের বাড়িতেও দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টা তল্লাশি চালানো হয়। এরপরই বুধে তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেইমতোই নির্ধারিত সময়ের আগেই সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছে যান প্রাক্তন মন্ত্রী।
