নিউজ ডেস্ক: ভারতের বিচারব্যবস্থার অন্দরমহল নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়কে নিয়ে একাধিক দাবি করেছেন শীর্ষ আদালতেরই প্রাক্তন বিচারপতি সঞ্জয় কৌল। তাঁর আসন্ন আত্মজীবনীতে উঠে আসা কিছু মন্তব্য ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বিশেষ করে, কলেজিয়ামের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আগেই সরকারের মতামত বা সম্মতি চাওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে বিচারবিভাগের স্বাধীনতা এবং সরকারের সঙ্গে শীর্ষ আদালতের সম্পর্ক নিয়ে।
কী দাবি করেছেন সঞ্জয় কৌল?
সঞ্জয় কৌলের আত্মজীবনী ‘উইদাউট ফিয়ার অর ফেভার’ (Without Fear or Favour)-এ বিচারপতিদের নিয়োগ এবং কলেজিয়াম ব্যবস্থার কাজকর্ম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে। সেখানে তাঁর দাবি, প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় একবার কলেজিয়ামের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আগেই সরকারের সম্মতি বা মতামত জানতে চেয়েছিলেন। এই দাবি সামনে আসতেই বিচারবিভাগের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে চন্দ্রচূড়ের কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। আত্মজীবনীটি এখনও পড়ে দেখেননি বলেই জানিয়েছেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি। তাই বইটি না পড়ে এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না বলে তাঁর মত।
বিচারবিভাগের ‘মেরুদণ্ড’ নিয়েও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য
আত্মজীবনীতে বিচারবিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন সঞ্জয় কৌল। তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম, বিচারপতিরা নিজেদের অবস্থানে দৃঢ় থাকলে এবং বিচারবিভাগ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিলে সরকারের কাছ থেকেও সম্মান পাওয়া সম্ভব। তাঁর মতে, আদালত যদি সংবিধান ও আইনের ভিত্তিতে দৃঢ় অবস্থান নেয়, তা হলে সরকার সব সময় অযৌক্তিক আচরণ করবে, এমনটা ভাবার কারণ নেই।
এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে বিচারবিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় বিচারপতিদের ব্যক্তিগত দৃঢ়তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন তিনি।
রাফাল মামলার প্রসঙ্গ টেনে কী বোঝাতে চাইলেন?
সঞ্জয় কৌল তাঁর বক্তব্যে রাফাল যুদ্ধবিমান চুক্তি সংক্রান্ত মামলার প্রসঙ্গও এনেছেন। ওই চুক্তিকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলাগুলি সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করেছিল। কৌলের মতে, আদালতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হল রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা। সরকারের কোনও সিদ্ধান্ত আদালতের অপছন্দ হতে পারে, আবার আদালতের রায়ও সরকারের পছন্দ নাও হতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক বিরোধীদের সহায়তা করাই আদালতের উদ্দেশ্য হতে পারে না।
সঞ্জয় কৌলের আত্মজীবনীতে উঠে আসা এই দাবিগুলি বিচারবিভাগের স্বাধীনতা, কলেজিয়াম ব্যবস্থা এবং সরকারের সঙ্গে আদালতের সম্পর্ক নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে তাঁর বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট বুঝতে আত্মজীবনীটি প্রকাশ্যে আসা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য জানা গুরুত্বপূর্ণ।




