নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার সকাল থেকেই কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) তল্লাশি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রাথমিকভাবে কয়েকটি প্রতিবেদনে ১০-১১টি জায়গায় অভিযানের কথা বলা হলেও, সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ED মোট ১৫টি premises-এ search and seizure operation চালাচ্ছে। এই অভিযানকে ঘিরে তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন।
ED সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর থেকেই কলকাতার একাধিক এলাকায় একযোগে তল্লাশি শুরু হয়। অভিযানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ED-র কলকাতা জোনাল অফিসের আধিকারিকরা। Prevention of Money Laundering Act (PMLA), 2002-এর Section 17-এর আওতায় এই search operation চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। তল্লাশিতে নথিপত্র এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে Mahanirban Road Mass Art Society বা MassArt-এর সঙ্গে যুক্ত একটি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, সংস্থাটি কলকাতার বিভিন্ন দুর্গাপুজোর ‘Preview Show’ আয়োজনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছিল। ED-র দাবি, সংগঠনটি নিজেদের UNESCO-র সঙ্গে যুক্ত বা UNESCO-sponsored entity হিসেবে উপস্থাপন করে অর্থ সংগ্রহ করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা এখন সেই অর্থ কোথা থেকে এসেছে এবং কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে, তার financial trail খুঁজে দেখছেন।
অভিযোগের সূত্রপাত অবশ্য আরও আগে। চলতি বছরের জুনে কলকাতা পুলিশের কাছে একটি complaint দায়ের করা হয়েছিল। সেখানে অভিযোগ ওঠে, দুর্গাপুজোর preview ও guided show-এর নামে বিশেষ pass বিক্রি করা হয়েছিল এবং সেই প্রচারে UNESCO-র নাম ও logo ব্যবহারের বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে আসে। The Indian Express-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, অভিযোগে প্রায় ৫০-৬০ কোটি টাকা সংগ্রহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যদিও এই অঙ্ক এবং অর্থের ব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগগুলি এখনও তদন্তাধীন।
আরও অভিযোগ রয়েছে, কলকাতার একাধিক নির্বাচিত পুজোমণ্ডপে সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশের আগে বিশেষ preview show আয়োজন করা হয়েছিল। কিছু ক্ষেত্রে pass-এর দাম কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত ছিল বলে অভিযোগকারী জানিয়েছেন। The Week-এর প্রতিবেদনে অভিযোগের ভিত্তিতে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ₹৪,০০০ পর্যন্ত ticket-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এগুলি তদন্তে ওঠা অভিযোগ; এখনও আদালতের চূড়ান্ত রায় হয়নি।
ED এখন মূলত দেখতে চাইছে MassArt-এর সঙ্গে কারা যুক্ত ছিলেন, কীভাবে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেই টাকা কোন account বা ব্যক্তির মাধ্যমে ঘুরেছে এবং শেষ পর্যন্ত কোথায় ব্যবহার হয়েছে। তদন্তকারীরা বিভিন্ন নথি ও electronic material পরীক্ষা করছেন বলে জানা গিয়েছে। প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের পাশাপাশি তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের premises-ও এই অভিযানের আওতায় রয়েছে।
অভিযান চলাকালীন পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ED-র তরফে এমন কোনও final finding প্রকাশ করা হয়নি, যাতে অভিযোগগুলি প্রমাণিত বলে ধরা যায়। তাই তল্লাশি থেকে কী কী নথি বা সম্পদ উদ্ধার হয়েছে এবং তদন্ত শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর।
দুর্গাপুজোর ঠিক মুখে কলকাতায় ED-র ১৫টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে। আপাতত তদন্তের মূল প্রশ্ন, দুর্গাপুজোর preview show ঘিরে সংগৃহীত অর্থের প্রকৃত উৎস ও ব্যবহার কী ছিল, এবং সেই আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে কারা যুক্ত ছিলেন। তদন্ত এগোলেই সেই প্রশ্নগুলির উত্তর আরও স্পষ্ট হতে পারে।
