বারুইপুর, নিউজ ডেস্ক: রাজনীতি করতে গিয়ে ১৮ বছর ছিলেন বাড়িছাড়া। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর নিজের এলাকায় ফিরেছেন বিজেপি কর্মী বাপি প্রামানিক। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না! বাড়ির কাছেই রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হল ৪৫ বছরের বাপির দেহ। বারুইপুরের এই খুনের ঘটনায় এখন একের পর এক বিস্ফোরক দাবি ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য।
সূত্রে খবর, রবিবার রাতে বারুইপুর থানার হাড়দহ গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর ট্যাঙারবেড়িয়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতরা হলেন সুজন মন্ডল, কৃষ্ণ মন্ডল, কনক মন্ডল এবং অনিল নাইয়া। মঙ্গলবার তাঁদের আদালতে তোলা হলে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ধৃতদের মধ্যে সুজন মন্ডলের রাজনৈতিক পরিচয় ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। তিনি বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এমনকি, বারুইপুর পূর্বের ৫ নম্বর মন্ডলের প্রাক্তন সভাপতিও ছিলেন তিনি। যদিও বিজেপির একাংশের দাবি, তাঁকে আগেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। অন্যদিকে, বাকি তিনজন তৃণমূল সমর্থক বলে পরিচিত বলে দাবি পরিবারের।
তবে, খুনের আসল রহস্য যেন লুকিয়ে রয়েছে একটি ফোন কলের মধ্যে। পরিবারের দাবি, ঘটনার রাতে স্থানীয় বিজেপি কর্মী বাদল মন্ডল ফোন করে বাপিকে জানান, তাঁরা আক্রান্ত হয়েছে। সেই খবর পেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান বাপি। এরপর কিছুক্ষণ পর তাঁর বাড়ির কাছ থেকে উদ্ধার হয় রক্তাক্ত দেহ। ফলে, সেই ফোন কলের পিছনে কি রহস্য ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এ নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে, ধৃত সুজনের স্ত্রী সুপর্ণা সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, 'আমার স্বামীকে ফাঁসানো হয়েছে।' তাঁর দাবি ঘটনার সময় সুজন নৈশপ্রহরীর ডিউটিতে ছিলেন।
অন্যদিকে, বাপির দুই মেয়ে মন্দিরা ও সোনালীর অভিযোগ , রাজনৈতিক কারণেই তাঁদের বাবাকে নিশানা করা হয়েছিল। তাঁদের দাবি, ভোটের ফলপ্রকাশের পর এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা ফের এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছিলেন। এমনকি, বাপিকে টাকা দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ পরিবারের। সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরই নাকি তৈরি করা হয় খুনের ছক। যদিও এই অভিযোগ গুলির সত্যতা এখনও তদন্ত সাপেক্ষ।
মৃতের পরিবারের দাবি, রাজ্য পুলিশের তদন্তে তাঁরা আস্থা রাখতে পারছেন না। তাই প্রকৃত সত্য সামনে আনতে চান সিবিআই-এর তদন্ত। এদিকে বাপির বাড়ির সামনে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, চারজন গ্রেপ্তার হলেও কি প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীরা এখনও অধরা? নাকি ব্যক্তিগত বা স্থানীয় বিবাদের অন্য কারণও রয়েছে? পুলিশের তদন্তে কোন রহস্য সামনে আসে, সেদিকেই নজর সকলের।