ভুয়ো পুলিশ অফিসার সেজে তোলাবাজি। হোয়াটসঅ্যাপ কলে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে পাঁচ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগ উঠল পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে। জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে সাহেবগঞ্জ-২ পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান প্রদ্যুৎ পালের কাছে ফোন আসে। ফোন করা ব্যাক্তিটি নিজের পরিচয় দেন ভাতারের মেজ বাবু হিসাবে।
ফোনের ওপারে থাকা ব্যক্তি দাবি করেন, বিধায়ক ও পুলিশ সুপারের প্রবল চাপ রয়েছে। মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ফোনের ওপারে থাকা ব্যক্তিটি ফোন কেটে দেন।কিছুক্ষণ পর আবারো প্রধানের কাছে ফোন আসে। গ্রেপ্তারি এড়ানোর জন্য দাবি করা হয় প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকার। শুধু তাই নয় প্রধানকে একটি কিউআর কোড পাঠানো হয়। এবং বলা হয় ১১:৩০ -এর মধ্যে ৩ লক্ষ টাকা জমা দিতে হবে।
হঠাৎ এই ধরনের ফোনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তৃণমূল প্রধান। তড়িঘড়ি তিনি ভাতার-২ মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি অরিন্দম ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারপর বিষয়টি থানায় জানানো হয়। আর তারপরেই আসল রহস্য সামনে আসে। পরে জানা যায় যে নম্বর থেকে ফোন এসেছিল সেটি ভাতার থানার মেজো বাবুর নম্বর নয়। সেটি অন্য কারুর নম্বর।
বিষয়টি নিয়ে পুলিশকে দ্রুত ব্যাবস্থা গ্ৰহন করার কথা বলেন ভাতারের বিধায়ক সৌমেন কার্ফা। এ বিষয়ে বিধায়কের স্পষ্ট বার্তা, ' বিধায়কের নাম করে যদি কেউ তোলাবাজি করে বা টাকা চায়, তাহলে আমাকে জানান। আমি তাকে পুলিশকে দিয়ে গ্রেপ্তার করাব।'
এই ঘটনাকে ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে পূর্ব বর্ধমানের ভাতার এলাকায়। ইতিমধ্যেই ওই ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সন্ধান চালানো হচ্ছে। পুলিশের লোগো ব্যবহার করে কিভাবে কেউ টাকা চাইতে পারে তা নিয়েও উঠছে নানান প্রশ্ন। ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।