বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি নতুন বিতর্কে জড়াল ফিফা। একই ধরনের অপরাধে আমেরিকার ফোলারিন বালোগান ছাড় পেলেও ইংল্যান্ডের জ্যারেল কোয়ানসাকে দু’ম্যাচের জন্য নির্বাসিত করায় ক্ষোভ বাড়ছে থ্রি লায়ন্স শিবিরে। শুধু ইংল্যান্ড নয়, প্রাক্তন ফিফা রেফারিদের একাংশও প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। তাঁদের অভিযোগ, একই ধরনের ঘটনায় দু’রকম শাস্তি দিয়ে ধারাবাহিকতার নীতি ভেঙেছে ফিফা। ফলে নরওয়ের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনাল তো বটেই, ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে উঠলেও খেলতে পারবেন না কোয়ানসা।
প্রিমিয়ার লিগের প্রাক্তন রেফারি কিথ হ্যাকেট সমাজ মাধ্যমে কড়া ভাষায় লিখেছেন, বালোগানের শাস্তি পিছিয়ে দিয়ে ফিফা কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হয়েছে এবং বাইরের প্রভাব সিদ্ধান্তে পড়েছে বলেই তাঁর ধারণা। অন্য দিকে প্রাক্তন ফিফা রেফারি জোনাস এরিকসনের বক্তব্য, একই ধরনের ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এক সংবাদ সংস্থাকে তিনি বলেন, ম্যাচ পরিচালনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ধারাবাহিকতা। এক ফুটবলারের ক্ষেত্রে যে শাস্তি প্রযোজ্য, একই অপরাধে অভিযুক্ত অন্য ফুটবলারও সেই শাস্তিই পাবেন। এটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা। কিন্তু বালোগান ও কোয়ানসার ঘটনায় সেই নীতি মানা হয়নি।
বিতর্কের সূত্রপাত দুটি লাল কার্ডকে ঘিরে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধের পর বালোগানের লাল কার্ডের শাস্তি এক বছরের জন্য স্থগিত রেখেছিল ফিফা। ফলে তিনি বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি খেলতে পেরেনছিলেন। অন্য দিকে, মেক্সিকোর বিরুদ্ধে রাউন্ড অফ ১৬-এর ম্যাচে গুরুতর ফাউলের জন্য ‘ভিএআর’-এর হস্তক্ষেপে লাল কার্ড দেখেন কোয়ানসা। পরে ফিফার শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি তাঁকে দু’ম্যাচের জন্য নির্বাসিত করে। ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন করারও সুযোগ নেই। সেই কারণেই দ্বিচারিতার অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।
যদিও বিতর্কে বেশি সময় নষ্ট করতে চাইছে না ইংল্যান্ড শিবির। কোয়ানসাকে ছাড়াই নরওয়ের বিরুদ্ধে দল সাজানোর প্রস্তুতি শুরু করেছেন টমাস টুখেল। বুকায়ো সাকা জানিয়েছেন, কোয়ানসার নির্বাসনের খবর হতাশাজনক হলেও এখন বাস্তব মেনে এগোনো ছাড়া উপায় নেই। তাঁর কথায়, ফিফার সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য করতে চান না, কারণ দলের লক্ষ্য এখন শুধু মাঠে নেমে জয় আদায় করা। নিকো ও'রেইলিও কোয়ানসার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, আবেদন করার সুযোগও না পাওয়াটা দুঃখজনক। তাই সতীর্থের জন্যই লড়াই করবে গোটা ইংল্যান্ড দল।