স্পোর্টস ডেস্ক: এশিয়া কাপ জিতেও ট্রফি হাতে ওঠেনি ভারতীয় দলের। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভির হাত থেকে পুরস্কার নিতে অস্বীকার করে রবিবার পুরস্কার বিতরণীর মঞ্চ বয়কট করেন হরমনপ্রীত কউরেরা। অথচ খেলা শেষে সেই নকভির সঙ্গেই কথা বলতে দেখা গেল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সচিব দেবজিৎ সাইকিয়াকে। সেই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই উঠল প্রশ্ন। ক্রিকেটারদের পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলানো কিংবা কথা বলার ক্ষেত্রে যে অবস্থান বোর্ডের, সেখানে সচিব নিজে নকভির সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করলেন কেন? শেষ পর্যন্ত সেই বিতর্কের জবাব অবশ্য দিলেন সাইকিয়াই।
ঘটনাটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বোর্ড সচিব জানিয়েছেন, গোটা বিষয়টির মধ্যে কোনও ‘নরম’ অবস্থানের প্রশ্নই নেই। তাঁর দাবি, নকভিই এগিয়ে এসে কথা বলেছিলেন। সাইকিয়ার কথায়, “টসের সময় থেকে খেলার শেষ পর্যন্ত আমি রয়্যাল বক্সে নির্দিষ্ট আসনেই বসেছিলাম। অনেকে এসে আমার সঙ্গে কথা বলে গিয়েছেন। পরে রাজীব শুক্লাও আমার পাশে বসেন। নকভি আমার পিছনে সহ-সভাপতি খালিদের সঙ্গে বসেছিলেন। পরে উনিই এসে আমার সঙ্গে কথা বলেন। কেউ সৌজন্য দেখালে তো পাল্টা সৌজন্য দেখাতেই হবে।” অর্থাৎ, তাঁর বক্তব্যে ওই কথোপকথন ছিল নিছকই আনুষ্ঠানিক সৌজন্য। এর পিছনে অন্য কোনও সমীকরণ নেই।
তবে ট্রফির প্রশ্নে ভারত নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও সরেনি, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন সাইকিয়া। তাঁর দাবি, নকভির হাত থেকে ট্রফি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছিল। ভারতীয় বোর্ডের তরফে বিকল্পও দেওয়া হয়েছিল। নকভির বদলে এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলের সহ-সভাপতি খালিদ জারুনির হাত থেকে ট্রফি নেওয়া, অথবা চ্যাম্পিয়ন দলের বোর্ডের কোনও কর্তার কাছ থেকে তা গ্রহণ—দু’টি প্রস্তাবই দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নকভি দু’টি প্রস্তাবই খারিজ করে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। ফলে ট্রফি না নিয়েই মঞ্চ ছাড়ে ভারত। এক বছর আগে পুরুষদের এশিয়া কাপ জয়ের পরও একই ঘটনা ঘটেছিল। সেই ট্রফি এখনও ভারতে না আসায় প্রশ্ন তুলেছেন সাইকিয়া, “তা হলে কী ভাবে মহিলাদের দল ট্রফি নেবে?”
সব মিলিয়ে সাইকিয়ার বার্তা স্পষ্ট। নকভির সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় আর তাঁর হাত থেকে ট্রফি গ্রহণ, দু’টি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। তাঁর দাবি, সীমান্তের পরিস্থিতি বদলায়নি, তাই বোর্ডও নিজেদের অবস্থান বদলায়নি। দেশের মানুষের ভাবনার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাইকিয়ার কথায়, "কোনও অভিনয় করে লাভ নেই। আমাদের বোর্ড দেশের মানুষের পাশে আছে, দেশের সরকারের পাশেও আছে।" অর্থাৎ, মাঠের বাইরে সৌজন্যের কয়েক মুহূর্ত থাকলেও ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটের টানাপড়েনে অবস্থান বদলের কোনও ইঙ্গিত নেই।