নিউজ ডেস্ক: দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাই বিমানে মাঝ আকাশে দুই পাইলটের সংঘর্ষের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। প্রথমে ছুরি দিয়ে হামলার কথা উঠে এলেও, তদন্তে এখন বিমানের ককপিটে থাকা ‘ক্র্যাশ অ্যাক্স’ বা জরুরি কুঠার ব্যবহারের সম্ভাবনাও সামনে এসেছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও জানিয়েছেন, ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরকে ওই কুঠার দিয়ে আঘাত করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হামলায় ঠিক কোন অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছিল, তা এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটে ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানে। দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে উড়েছিল বিমানটি। মাঝ আকাশে ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে হঠাৎ হাতাহাতি শুরু হয়। অভিযোগ, ওমানের সহ-পাইলট ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে আক্রমণ করেন। সেই সময় বিমানটি আচমকা দ্রুত নীচে নামতে শুরু করে। প্রায় দু’মিনিটের মধ্যে বিমানটি প্রায় 17,400 ফুট উচ্চতা হারায়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমান থেকে জরুরি সঙ্কেত পাঠানো হয়। পরে সেটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। ককপিটের ভিতরের গোলমালের মধ্যে যাত্রীদের একাংশ এবং বিমানে থাকা অন্য পাইলটরা এগিয়ে এসে অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেন। গুরুতর আহত অবস্থাতেও ক্যাপ্টেন মচ্ছর ককপিটের দরজা খুলে দিতে পেরেছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি। তার পরেই যাত্রীরা ভিতরে ঢুকে পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম হন।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, বিমানের ভিতরে কুঠার এল কোথা থেকে?
আসলে বাণিজ্যিক বিমানে ‘ক্র্যাশ অ্যাক্স’ রাখা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এটি কোনও যাত্রীর আনা অস্ত্র নয়, বরং বিমানের জরুরি সরঞ্জামের অংশ। দুর্ঘটনা বা আগুনের মতো পরিস্থিতিতে কোনও প্যানেল, কাঠামো বা বাধা সরিয়ে জরুরি জায়গায় পৌঁছতে এই ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহার করা যায়। বিমান তৈরির সময় থেকেই নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এই সরঞ্জাম ককপিটে রাখা হয়। অর্থাৎ যে সরঞ্জামটি যাত্রী ও বিমানকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য রাখা, সেই সরঞ্জামই এ বার মাঝ আকাশে হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের সামনে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা। প্রথম দিকের যাত্রীদের বয়ানে ছুরি দিয়ে হামলার কথা উঠে এসেছিল। পরে কুঠার ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা সামনে আসে। ফলে হামলায় শেষ পর্যন্ত কোন অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল এবং কী ভাবে সেটি ব্যবহার করা হয়, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ফ্লাইদুবাইও জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়।
ঘটনার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, বিমানের ককপিটে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলেও যাত্রীরা দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখান। বিমানে থাকা অন্য পাইলটদের পাশাপাশি কয়েক জন যাত্রীও ককপিটে ঢুকে অভিযুক্তকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেন। আহত ক্যাপ্টেনকে বিমানে থাকা এক দন্ত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেন বলেও জানা গিয়েছে।
ঘটনার কারণ বা অভিযুক্ত সহ-পাইলটের উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। কোনও নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা সন্ত্রাসবাদী যোগের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
একটি যাত্রীবাহী বিমানের ককপিটে নিরাপত্তার জন্য রাখা জরুরি সরঞ্জাম কী ভাবে এমন ভয়াবহ ঘটনায় ব্যবহৃত হতে পারে এখন সেই প্রশ্নই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে এই ঘটনায় ককপিটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জরুরি সরঞ্জাম সংরক্ষণের নিয়ম নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
