নিউজ ডেস্ক: দুবাইয়ের বিমানে আক্রান্ত স্মিত মচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। স্মিতের প্রশংসা করে তাঁকে ‘হিরো’ বলে সম্বোধন করেছেন তিনি। একইসঙ্গে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে পাইলট স্মিতের সাহসিকতার প্রশংসা করেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও।
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, 'ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর একজন নায়ক। চরম বিপদের মুখে এবং গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও, তিনি অন্যদের জীবন রক্ষায় অসীম সাহস ও অবিচল সংকল্পের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর বীরত্ব শত শত মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং বড় বিপর্যয় এড়াতে সহায়তা করেছে। ভারত গর্বিত।’ একইসঙ্গে ক্যাপ্টেন মচ্ছারের দ্রুত আরোগ্য কামনাও করেছেন মোদী।
ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করে তাঁকে ‘সত্যিকারের নায়ক’ বলে উল্লেখ করেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, 'ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পরেও স্মিত প্রতিরোধ করেছেন। ককপিটের দরজা খুলে দেন এবং যাত্রী ও ক্রুদের হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনার সুযোগ করে দেন। ভারতীয় পাইলট ১৭৪ জনের প্রাণ বাঁচিয়েছেন।'
ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারকে ‘হিরো’ বলে অভিহিত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, 'পাইলট অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থায় ছিলেন। তা সত্ত্বেও সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। এটি সত্যিই বিস্ময়কর ব্যাপার। এক অর্থে তিনি একজন বীর।'
বুধবার দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাই বিমানে ৯/১১-র মতো হামলা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাই শহর থেকে ইজ়রায়েলের তেল আভিভের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল ফ্লাইদুবাই সংস্থার বিমানটি। সেখানে ছিলেন অন্তত ১৮০ জন। কিন্তু ৩৪ হাজার ফুট উঁচুতে আচমকা তার ককপিটে গোলমাল শুরু হয়। হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন দুই পাইলট। অভিযোগ, একজন অপরজনকে ধারালো অস্ত্রের কোপ মারেন। বিমান ফেলে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়। যাত্রীদের দাবি, বিমানটি ‘হাইজ্যাক’ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। একে সন্ত্রাসবাদী হামলা বলেও ব্যাখ্যা করছেন কেউ কেউ। যাত্রীরা সকলে সুরক্ষিত রয়েছেন।
জানা গিয়েছে, বিমানের সহ-পাইলটের হামলায় গুরুতর আহত হন ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার। এরপর বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে। আহত অবস্থাতেও তিনি ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। ফলে কয়েকজন যাত্রী ও ক্রু ককপিটে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। পরে বিমানে থাকা অন্য দুই পাইলটের সহায়তায় বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।
