নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর আর একমাসও বাকি নেই। তাই বাঙালির বড় উৎসবের আগে খাবারের মান ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে চলছে কড়া নজরদারি। এবার দক্ষিণ কলকাতার একাধিক রেস্তোরাঁয় তল্লাশি চালালেন কলকাতা পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। সেই অভিযানে উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর ছবি।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার গোলপার্কে মিষ্টির দোকান গাঙ্গুরাম সুইটস্-এ অভিযান চালায় খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ। সেখানে তল্লাশি চলাকালীন সিল করা নিমকির প্যাকেটে পাওয়া গেছে পাখির পালক। দোকানের এক কর্তা ভুল স্বীকার করে বলেন, 'ভুল করে চলে এসেছে। এটা ঠিক হয়নি।' যার জেরে খাবারের গুণমান নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। একইসঙ্গে খতিয়ে দেখা হয় মিষ্টি তৈরির কারখানাও। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, কারখানার লাইসেন্সও নেই, জানিয়েছেন খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের আধিকারিকরা।
এরপর কলকাতার বিখ্যাত বিরিয়ানির দোকান আমিনিয়ায় যান খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। ঘুরে দেখেন রান্না ঘর। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে পাওয়া যায় মেয়াদ উত্তীর্ণ ফিরনি ও সস। যেগুলো ফ্রিজে মজুত করে রাখা ছিল। ফেলে দেওয়া হয়েছে সেই সব জিনিস। শুধু তাই নয়, 'কষে কষা' মতো জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয় ফ্রিজারে রাখা তেঁতুল। আরকেটি রেস্তোরাঁয় পাওয়া যায় ছত্রাক জমে থাকা চিকেন তন্দুরি। ফেলে দেওয়া হয়। পর পর কয়েকটি দোকান ও রোস্তোরাঁয় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা।
এছাড়াও, গোলপার্কের একটি রেস্তোরাঁ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে কাবাব, মোমো। সেগুলি ফ্রিজের মধ্যে জমিয়ে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। দুধের প্যাকেটে মিলেছে মরা আরশোলা। সেটাও ফেলে দেওয়া হয়েছে। কার্যত অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে একাধিকা রেঁস্তোরা ও খাবারের দোকান থেকে। বিভিন্ন জায়গায় নিম্নমানের ও মেয়াদ উত্তীর্ণ সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয় ৷
সম্প্রতি, কলকাতা সহ জেলায় জেলাগর বিভিন্ন হোটেল-রেস্তরাঁ-দোকানে অভিযান চালায় খাদ্য সুরক্ষা দফতর। ইতিমধ্যে, কলকাতার মোট ৬৫ হোটেল-রেস্তোরাঁয় লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে। কোথাও মিলেছে পচা মাছ-মাংস, কোথাও খাবারে মেশানো হচ্ছিল বিষ রং। কোনও রেস্তোরাঁর পনিরে পেঁচিয়ে চুল। কোনও মিষ্টির দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। সামনেই বাংলার সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। তখন রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানগুলিতে সাধারণত মানুষের ভিড় অনেক বেড়ে যায়। তাই জনসাধারণের স্বাস্থ্যের মাথায় রেখে এই অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।