কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গে পালিত হচ্ছে অন্নপূর্ণা দিবস। বিশ্বকর্মা পুজোর শুভ লগ্নে রাজ্যের মানুষের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলার মহিলাদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে মোদী বলেন, বাংলার মা-বোনেরা সবসময় তাঁকে ভালোবাসা, স্নেহ এবং ভরসা দিয়ে এসেছেন। তাঁদের সেই আস্থা তাঁকে শক্তি জুগিয়েছে।
এদিন বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ আমি সত্যিই খুবই উচ্ছ্বসিত। বাংলার মা-বোনেরা সবসময়ই আমাকে ভালোবাসা-স্নেহ উজাড় করে দিয়েছেন।” বাংলার মানুষের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, তাঁদের আত্মীয়তা তাঁকে সবসময় শক্তি দিয়েছে। এরপরই তাঁর বার্তা, “আমার শক্তি, আপনাদের ভরসা।”
বিশ্বকর্মা পুজোর শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী অন্নপূর্ণা যোজনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, এই প্রকল্প বাংলার মহিলাদের জীবনে নতুন সামর্থ্য এবং নতুন শক্তি জোগাচ্ছে। পরিবারের দৈনন্দিন দায়িত্ব সামলানোর ক্ষেত্রে মহিলাদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রত্যেক বাড়ির মহিলাদের কাঁধে একাধিক দায়িত্ব থাকে। নিজেদের সবটা দিয়ে তাঁরা পরিবারের দেখভাল করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসারের জরুরি খরচ নিয়ে মহিলাদের চিন্তা যখন কিছুটা কমে, তখন তাঁদের আত্মবিশ্বাসও বাড়ে। আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে সেই আত্মবিশ্বাস আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই অন্নপূর্ণা যোজনার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
এদিন প্রধানমন্ত্রী জানান, কমপক্ষে দেড় কোটি মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার চতুর্থ কিস্তির টাকা ঢুকছে। ফলে রাজ্যের বিপুল সংখ্যক মহিলা এই আর্থিক সহায়তার আওতায় আসছেন। সরকারের তরফে এই প্রকল্পকে মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা এবং পরিবারের আর্থিক সুরক্ষার সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিশ্বকর্মা পুজোর দিনেই দেশের ঐতিহ্যবাহী কারিগর এবং শিল্পীদের জন্য চালু হওয়া পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ২ লক্ষ ঐতিহ্যবাহী কারিগর ও শিল্পীকে আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
প্রকল্পের আওতায় উপযুক্ত সুবিধাভোগীরা ধাপে ধাপে জামানতবিহীন ঋণের সুবিধা পেতে পারেন। প্রথম ধাপে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় ধাপে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের ব্যবস্থা রয়েছে। এই ঋণের সুদের হার ৫ শতাংশ বলে জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এদিন একদিকে যেমন বাংলার মহিলাদের প্রতি তাঁর আস্থা ও তাঁদের সঙ্গে সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে, তেমনই অন্যদিকে অন্নপূর্ণা যোজনা এবং পিএম বিশ্বকর্মা যোজনার মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
বিশেষ করে বাংলার ঐতিহ্যবাহী কারিগর ও শিল্পীদের জন্য ঋণসুবিধার কথা উল্লেখ করে তাঁদের পেশাগত কাজকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরির বার্তা দেওয়া হয়েছে। অন্নপূর্ণা দিবস এবং বিশ্বকর্মা পুজোর একই দিনে এই দুই প্রকল্পের প্রসঙ্গ সামনে আসায় নারী ও কারিগর দুই ক্ষেত্রেই সরকারি সহায়তার বিষয়টি এদিনের বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।