কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন উপলক্ষে ১৭ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ‘অন্নপূর্ণা দিবস’ পালনের ঘোষণা আগেই করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই ঘোষণামতো বৃহস্পতিবার রাজ্যে অন্নপূর্ণা দিবসের সূচনা হয়। এই কর্মসূচিকে ঘিরে একাধিক সামাজিক ইস্যুতে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে নেশামুক্ত সমাজ গড়ার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ এবং বাল্যবয়সে সন্তান প্রসবের মতো সামাজিক সমস্যাগুলি বন্ধ করার প্রসঙ্গও।
এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, রাজ্য সরকার শুধুমাত্র মানুষের হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়ার জন্য কাজ করছে না। তাঁর কথায়, সরকারের লক্ষ্য সমাজে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা এবং মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটানো। সেই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, ‘এই সরকার শুধু ভাতা দিতে আসেনি। সংস্কার করতে এসেছে।’
অন্নপূর্ণা দিবসের মূল কেন্দ্রবিন্দু অবশ্যই অন্নপূর্ণা যোজনা। রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি যোগ্য মহিলাদের জন্য এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের কিস্তির টাকা ১৭ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ অন্নপূর্ণা দিবসেই যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর কথা জানানো হয়েছিল। অগস্ট মাসে প্রায় ১ কোটি ৪৮ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন।
সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, অন্নপূর্ণা যোজনায় যোগ্য মহিলারা মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পান। পাশাপাশি, যাঁরা এখনও এই প্রকল্পে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারেননি, তাঁদের জন্য ফের আবেদনের সুযোগ দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে জনকল্যাণ শিবির আয়োজন করে অন্নপূর্ণা যোজনার পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের জন্যও আবেদন নেওয়ার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে এসেছে।
তবে এদিনের বক্তব্য শুধু সরকারি প্রকল্পের আর্থিক সুবিধার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সমাজের দীর্ঘদিনের কিছু সমস্যার বিরুদ্ধে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, নেশামুক্ত পশ্চিমবঙ্গ গড়তে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে।
এর পাশাপাশি বাল্যবিবাহ এবং অল্প বয়সে সন্তান প্রসবের মতো বিষয়গুলিকেও সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত করেন তিনি। তাঁর মতে, এই ধরনের সমস্যা বন্ধ করতে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ এবং স্থানীয় স্তরের মানুষের সচেতনতা জরুরি। শুধু সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়া নয়, সামাজিক সমস্যাগুলির মোকাবিলাও সরকারের কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ—এমনই বার্তা উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।
অন্নপূর্ণা দিবসকে ঘিরে তাই একদিকে যেমন সরকারি আর্থিক সহায়তার বিষয়টি সামনে এসেছে, অন্যদিকে সামাজিক সংস্কার এবং সচেতনতার বার্তাও গুরুত্ব পেয়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা কতটা মানুষের কাছে পৌঁছয় এবং নেশা, বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।