প্রকৃতি ধ্বংস করে বেআইনি নির্মাণ। কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্যের বন বিভাগ। সুন্দরবনের সমস্ত রিসর্টের অডিট করার নির্দেশ দিলেন বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাও। বনবিভাগের দাবি ম্যানগ্ৰোভ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হবে। বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুন্দরবন এলাকা জুড়ে কমকরে ১৫-টি রিসর্ট রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ১০টি রিসর্ট ম্যানগ্রোভ ধ্বংস করে নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয় জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করেই এই নির্মাণ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নির্মানের জন্য একাধিক বাঁধ ভেঙ্গে ফেলে হয়। এর ফলে বর্ষাকালে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
শনিবার ও রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ম্যানগ্রোভ অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন বনমন্ত্রী। পরিদর্শনের সময় ম্যানগ্রোভ ধ্বংস, গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ এবং বেআইনি নির্মাণের একাধিক তথ্য তাঁর নজরে আসে। বনদপ্তর ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত একটি প্রাথমিক রিপোর্ট মন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছে। সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন বনমন্ত্রী।
এর জন্য খুব শীঘ্রই রিসর্টগুলির অডিট শুরু হবে। অডিট রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হবে বলে সুত্র মারফত জানা গিয়েছে। এই ঘটনা বিগত সরকারের বা কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির ভূমিকা ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অডিটের উপর নির্ভর করে আগামী দিনে এই রিসোর্ট গুলির সমস্ত তথ্য উঠে আসবে।
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য সুন্দরবন। এই অরণ্যকে রক্ষা করতে বনবিভাগ যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তার সাধুবাদ জানিয়েছে পরিবেশপ্রেমী মানুষজন। এর ফলে আগামী দিনে অরণ্য ধ্বংস কমবে বলে মনে করছেন তারা।