স্পোর্টস ডেস্ক: বয়স মাত্র ১৫। অথচ এর মধ্যেই ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম চর্চিত নাম বৈভব সূর্যবংশী। আইপিএলে দুরন্ত ব্যাটিং, একের পর এক রেকর্ড—সব মিলিয়ে জাতীয় দলে তাঁর সুযোগ পাওয়া নিয়ে সমর্থকদের প্রত্যাশাও তুঙ্গে। কিন্তু আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে একটি ম্যাচেও প্রথম একাদশে জায়গা পাননি ভারতীয় ক্রিকেটের বিস্ময় বালক। এমনকি আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেও তাঁকে ঘিরে প্রশ্ন উঠছে। কেন এত ভাল ফর্মে থাকা তরুণকে বাইরে রাখা হচ্ছে? সেই 'কোটি টাকার' প্রশ্নেরই জবাব দিলেন টিম ইন্ডিয়ার হেড কোচ গৌতম গম্ভীর। তাঁর বক্তব্য, বৈভবকে নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছে। কিন্তু দলের দুই ওপেনার সঞ্জু স্যামসন এবং অভিষেক শর্মা দীর্ঘদিন ধরে যে পারফরম্যান্স করে আসছেন, তার পর তাঁদের হঠাৎ সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।
গম্ভীর জানিয়েছেন, বৈভবকে তিনি পরিষ্কার করে বুঝিয়েছেন, ভাল ফর্মে থাকলেই যে সঙ্গে সঙ্গে প্রথম একাদশে জায়গা মিলবে, এমন নয়। কখনও কখনও সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। ভারতীয় কোচের কথায়, “ও ভাল ফর্মে ছিল। কিন্তু ওকে বুঝিয়েছি, দীর্ঘদিন ধরে যারা ভাল খেলছে, তাদের জন্য কখনও কখনও অপেক্ষা করতে হয়।” অর্থাৎ বৈভবের প্রতিভা নিয়ে কোনও সংশয় নেই টিম ম্যানেজমেন্টের। সমস্যা অন্য জায়গায়। দলের ভারসাম্য এবং ইতিমধ্যে তৈরি হওয়া ওপেনিং জুটি। গত দেড়-দুই বছর ধরে সঞ্জু এবং অভিষেক যেভাবে নিজেদের জায়গা পাকা করেছেন, তার পর এক-দু’টি খারাপ ম্যাচের কারণে তাঁদের বাদ দিয়ে তরুণ বৈভবকে খেলানোকে ঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন না গম্ভীর। তাঁর যুক্তি, বৈভবকে খেলাতে হলে যাঁকে বাদ দিতে হবে, তাঁর কাছেও কঠিন ব্যাখ্যা দিতে হবে।
এতেই শেষ নয়। সমাজ মাধ্যমে বৈভবকে খেলানোর দাবি যতই জোরালো হোক, বাইরের চাপ কিংবা জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে যে ভারতের প্রথম একাদশ ঠিক করা হবে না, এ কথাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন গম্ভীর। তাঁর বক্তব্য, ড্রেসিংরুমে থাকা ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স, কোচ ও অধিনায়কের পরিকল্পনা এবং ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা—এই সবকিছু বিচার করেই একাদশ বেছে নেওয়া হয়। “সামাজিক মাধ্যম বা বাইরের আওয়াজ প্রথম একাদশ ঠিক করে না,” স্পষ্ট বার্তা গম্ভীরের। তাঁর মতে, জনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ, কিন্তু সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক কঠিন। তাই বৈভবকে নিয়ে যতই বাইরে থেকে চাপ আসুক, শুধুমাত্র সেই চাপের কাছে নতি স্বীকার করে দীর্ঘদিনের সফল কম্বিনেশন ভেঙে ফেলতে চান না তিনি। তরুণ ক্রিকেটারের সামনে দরজা বন্ধ নয়, বরং সঠিক সময়ের অপেক্ষা। এটাই গম্ভীরের বার্তা।
ভারতীয় কোচ আরও মনে করিয়ে দিয়েছেন, কোনও দলই একটি বিশ্বকাপ থেকে পরের বিশ্বকাপ পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচ জিতে যেতে পারে না। ফলে একটি সিরিজ খারাপ যাওয়া বা কয়েকটি ম্যাচে ব্যর্থতা মানেই কোনও ক্রিকেটারকে খারাপ বলে দেওয়া যায় না। একইভাবে, ৩-৪টি ম্যাচের ফল দেখে দীর্ঘদিনের সফল জুটি ভেঙে ফেলাও তাঁর কাছে যুক্তিযুক্ত নয়। তাই সঞ্জু-অভিষেক জুটির উপর আস্থা রাখার সিদ্ধান্তকে নিজের কাছে সঠিক বলেই মনে করছেন গম্ভীর। বৈভবের প্রতিভা নিয়ে তাঁর সংশয় নেই। কিন্তু জাতীয় দলের দরজা খুললেও প্রথম একাদশে জায়গা পেতে তাঁকে আরও কিছুটা অপেক্ষা করতেই হবে। বয়স তাঁর পক্ষে, সময়ও রয়েছে প্রচুর। এখন দেখার, সেই অপেক্ষার পর যখন সুযোগ আসবে, তখন ১৫ বছরের বিস্ময়বালক বৈভব কী ভাবে সেই সুযোগকে কাজে লাগান।
