বার্লিন: শিক্ষা, কর্মসংস্থান, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের নীতির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিল জার্মানির তরুণ প্রজন্ম। শনিবার, ১ নভেম্বর, দেশের ৩০টিরও বেশি শহরে বিক্ষোভে শামিল হন হাজার হাজার তরুণ-তরুণী। কিন্তু সন্ধ্যা গড়াতেই একাধিক শহরে সেই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়ে হিংসা। ভাঙচুর, লুটপাট এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। আর এই ঘটনাকে ঘিরেই অভিবাসী সম্প্রদায়ের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট।
‘GenZ regelt!’ অর্থাৎ ‘জেন জি সামলে নেবে’ এই নামের একটি যুব আন্দোলনের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছিল দেশজুড়ে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি। আয়োজকদের দাবি, তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকার যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না। স্কুল-শিক্ষায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার খরচ কমানো, সামাজিক বৈষম্য দূর করা, জলবায়ু সুরক্ষা এবং বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবার বিরোধিতার মতো একাধিক দাবি সামনে রেখে পথে নামেন তাঁরা। আয়োজকদের দাবি, দেশজুড়ে প্রায় এক লক্ষ মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
দিনের বেলায় অধিকাংশ জায়গায় শান্তিপূর্ণভাবেই চলে প্রতিবাদ। কিন্তু রাত নামতেই ফ্রাঙ্কফুর্ট, কোলন, হামবুর্গ এবং বার্লিনের কয়েকটি এলাকায় পরিস্থিতি বদলে যায়। ফ্রাঙ্কফুর্টে একাধিক দোকানের কাচ ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। পুলিশের দিকে পাথর, বোতল এবং পেট্রল বোমা ছোড়ার ঘটনাও সামনে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জলকামান-সহ অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
ফ্রাঙ্কফুর্টে সংঘর্ষের ঘটনায় শতাধিক পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন এবং ৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনার পরেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট। তাঁর অভিযোগ, বামপন্থী হিংসাত্মক গোষ্ঠী এবং অভিবাসী সম্প্রদায়ের কিছু দুষ্কৃতী শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে হাইজ্যাক করেছে। দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তিরও দাবি জানিয়েছেন তিনি। হেসের মুখ্যমন্ত্রী বরিস রাইনও হিংসার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন।
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে পাল্টা বিতর্ক। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াসের বক্তব্য, অপরাধীদের অভিবাসী পরিচয়ের ভিত্তিতে চিহ্নিত করা সমস্যার সমাধান নয়। বামপন্থী ও গ্রিন পার্টির নেতারাও জানিয়েছেন, কয়েকজনের হিংসাত্মক আচরণের জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের দাবিকে উপেক্ষা করা উচিত নয়।
অন্যদিকে, আন্দোলনের আয়োজকরা হিংসার সঙ্গে নিজেদের কোনও সম্পর্ক নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন। আগামী ১৪ নভেম্বর ফের দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ‘GenZ regelt!’। ফলে তরুণদের দাবি এবং হিংসা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক দুই বিষয়েই এখন নজর জার্মানির প্রশাসনের।




