কলকাতা: সরকার বদলেছে, কিন্তু বদলায়নি দুর্নীতির ছবি! আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে ফের অসন্তোষ প্রকাশ করলেন নির্যাতিতার মা তথা পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। শুধু তদন্ত নয়, রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজগুলিতে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক পালাবদল হলেও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রভাব এখনও কমেনি। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রত্না দেবনাথ বলেন, রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির কতটা বদল হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর কথায়, “সরকার বদলেছে ঠিকই, কিন্তু একই লোকজন এখনও নিজেদের জায়গায় রয়েছেন। দুর্নীতি তো কমেনি।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা।
আরজি কর কাণ্ডের তদন্ত নিয়েও নিজের অসন্তোষ গোপন করেননি নির্যাতিতার মা। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে এখনও যথেষ্ট অগ্রগতি হয়নি। সিবিআইয়ের তদন্তের গতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তদন্তকারী সংস্থা যদি নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে না পারে, তাহলে তাদের সরে দাঁড়ানো উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন রত্না।
পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই মামলায় তাঁর পরিবার কখনও কেন্দ্রীয় তদন্তের দাবি জানায়নি। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশেই তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে গিয়েছিল। আদালতের নির্দেশে শুরু হওয়া তদন্তে এখনও কেন সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেল না, তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
এখানেই শেষ নয়। রাজ্যের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের দাবিও তুলেছেন পানিহাটির বিধায়ক। তাঁর দাবি, একাধিক মেডিক্যাল কলেজের অনিয়ম সংক্রান্ত বেশ কিছু নথি ও ফাইল তাঁর হাতে এসেছে। সেই সমস্ত নথি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে তুলে ধরতে চান তিনি। বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলে যথাযথ তদন্তের দাবি জানাবেন বলেও জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে আরজি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় গোটা রাজ্য উত্তাল হয়েছিল। সেই ঘটনার বিচার এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে নির্যাতিতার পরিবার বারবার অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেন রত্না দেবনাথ। পরে পানিহাটি কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে বিধায়ক হন তিনি।
তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যে ফের সামনে এসেছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, আরজি কর মামলায় পূর্ণাঙ্গ বিচারের দাবি এবং রাজ্যের মেডিক্যাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত। তবে তাঁর তোলা অভিযোগগুলির বিষয়ে তদন্তের ফলাফলই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে প্রকৃত সত্য।




