কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের পালাবদলের পর রাজনৈতিক দল গুলির মধ্যে বিতর্ক ও সংঘাত প্রায়শই লেগে রয়েছে। এবার সেই রাজনৈতিক বিতর্ক গিয়ে পৌঁছালো হাসপাতালের দোরগোড়ায়। রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নেওয়া নিয়ে ফের শুরু হল রাজনৈতিক তরজা। শুধুমাত্র বিধায়ক হলেই কি সরকারি সুবিধা নেওয়ার অধিকার মিলবে, এই প্রশ্ন উঠে এসেছে। বিধায়ক হিসেবে পাওয়া সুযোগকে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করা কতটা যুক্তিসম্পন্ন, এই প্রশ্নকে ঘিরে এবার তীব্র রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে।
বিধায়কদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের আগুন উসকে দিলেন বিজেপি বিধায়ক সৌমেন কার্ফা। তাঁর নিশানায় সরাসরি তৃণমূল বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিক ও তার স্ত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজ। শ্রীময়ী চট্টরাজের সন্তান প্রসবকালীন হাসপাতালের খরচ নিয়ে যে বিতর্ক উঠেছিল, সেই প্রসঙ্গ নিয়েই বিজেপি বিধায়কের বিস্ফোরক দাবি। তাঁর দাবি, রাজনীতিতে আসা মানে সরকারি কোষাগারের সুযোগ নেওয়া নয়। তিনি জানান, এখনও এমন বহু মানুষ আছেন যারা জাতীয়তাবাদ, আদর্শ এবং সমাজসেবার ভাবনা থেকে রাজনীতি করেন।
এমনকি, তিনি উল্লেখ করেন ব্যক্তিগত সামর্থ্য থাকলে সরকারি কোষাগারের উপর বোঝা না চাপানোই শ্রেয়। নিজের উদাহরণ তুলে বিজেপি বিধায়ক দাবি করেন, তাঁর স্ত্রী সন্তানপ্রসবের সময় কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে তাঁদের কয়েক লক্ষ টাকা বিল হয়েছে। কিন্তু তিনি আদর্শ বিধায়ক হিসেবে সরকারি কোষাগরের সাহায্য না নিয়ে নিজের পারিবারিক অর্থের দ্বারা সেই বিল মিটিয়েছেন।
এর পরে কাঞ্চন মল্লিককে সরাসরি নিশানা করে তিনি মন্তব্য করেন, যেখানে নিজের খরচ নিজে বহন করার সামর্থ্য রয়েছে সেখানে সরকারি অর্থ ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা কি। কাঞ্চন মল্লিক নিজের স্ত্রীর সন্তানপ্রসবের সময় প্রায় ছয় লক্ষ টাকা খরচ করেছেন সরকারি তহবিল থেকে। এটা কখনওই একজন জনপ্রতিনিধির থেকে কাম্য নয়। পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারি সুবিধা এড়িয়ে চলার প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি।
বিজেপি বিধায়ক দাবি করেন, রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সরকারি কোষাগারের টাকা সঞ্চয় করা একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব। এই মন্তব্যকে ঘিরে ফের মুখোমুখি বিজেপি ও তৃণমূলের রাজনৈতিক অবস্থান। বিজেপি বিধায়কের এই মন্তব্যকে ঘিরে নানান প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে। যদিও এখনও পর্যন্ত অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিকের তরফ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।




