বাহাওয়ালনগর, বিশ্বদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়:* পাকিস্তানের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদকে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন সে দেশের ধর্মগুরু আল্লামা নাসির মাদনি। তাঁর দাবি, হাফিজ সঈদ-ই কাশ্মীরে ১০ হাজার জঙ্গিকে পাঠিয়েছিল। গত ১৪ অগাস্ট বাহাওয়ালনগরে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত একটি জমায়েতে বক্তৃতা দিতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন মাদনি। কয়েক দিন আগে শুক্রবারের নমাজের খুতবা দেওয়ার সময় গুরুতর হৃদ্যন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। তার পর ফিরে এসে প্রকাশ্যে তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
মাদনির এই দাবি সামনে আসতেই কাশ্মীরে লস্কর-ই-তইবার দীর্ঘদিনের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ এবং তার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সঈদের ভূমিকা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবা ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক ভয়াবহ হামলার সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০০৫ সালে আল-কায়দা এবং তালিবানের সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগে লস্কর-ই-তইবাকে নিষিদ্ধ করে রাষ্ট্রপুঞ্জ। ২০০৮ সালে আমেরিকাও হাফিজ সঈদকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। ভারতের একাধিক সন্ত্রাসবাদী হামলার তদন্তেও তার নাম উঠে এসেছে।
বিশেষ করে ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার ঘটনায় হাফিজ সঈদের নাম বার বার সামনে এসেছে। ২৬ নভেম্বর সমুদ্রপথে মুম্বইয়ে ঢুকে পড়েছিল ১০ জন জঙ্গি। ৪ দিন ধরে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সমন্বিত হামলা চালানো হয়। প্রাণ হারান ১৬৬ জন, আহত হন প্রায় ৩০০। সেই হামলার ঘটনায় পাকিস্তানি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে ভারত। গত জুলাইয়ে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা মামলাতেও হাফিজ সঈদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে জম্মুর একটি আদালত।
পহেলগাঁও হামলার তদন্তেও সঈদের নাম উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যাঁদের অধিকাংশই ছিলেন সাধারণ পর্যটক। এদিকে মুম্বই পুলিশও ২৬/১১ মামলায় পাকিস্তানের ৬ পলাতক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ‘অনুপস্থিতিতে বিচার’-এর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অভিযুক্তরা দোষী সাব্যস্ত হলে সাজা ঘোষণা করা হবে এবং ভবিষ্যতে তাঁদের ভারতে আনা সম্ভব হলে সেই সাজা কার্যকর করা যাবে। এই আবহে মাদনির ‘১০ হাজার জঙ্গি’ মন্তব্য হাফিজ সঈদ ও লস্কর-ই-তইবার কাশ্মীর-কেন্দ্রিক ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে।