জঙ্গি সন্দেহে বর্ধমানের রেনেসাঁ টাউনশিপ থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে হামিম মন্ডল। রাজ্য পুলিশের এসটিএফ এর জালে শুক্রবার ধরা পড়ে সে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির উপর নজর রাখছিল এই জঙ্গি এমনটাই তথ্য উঠে এসেছে। এবার ঝাড়খন্ড পুলিশের জালে হামিম ঘনিষ্ঠ তার বান্ধবী অর্পিতা সরকার। শুক্রবার গভীর রাতে ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অর্পিতাকে এমনটাই পুলিশ সূত্রে খবর।
এসটিএফ-এর প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। হামিম মন্ডলের বান্ধবী অর্পিতাকে কাজে লাগানো হতো তথাকথিত হানিট্র্যাপের-এর জন্য। অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তি, সরকারি আমলা ও গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকদের লক্ষ্য করে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে তাঁদের কাছ থেকে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাতো অর্পিতা। গোটা চক্রের নেপথ্যে ছিল সুপরিকল্পিত গুপ্তচরবৃত্তির ছক এমনটাই তদন্তকারীরা মনে করছে।
এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত হামিমের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের কুসুমগ্রামে। আর পাঁচটা সাদামাটা চাকরি করলেও ভিতরে ভিতরে নাশকতা মূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল সে। এসটিএফের দাবি, তার সঙ্গে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর যোগাযোগের সূত্র মিলেছে। হামিমের মোবাইল ও ল্যাপটপে একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের গতিবিধি সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলেও দাবি তদন্তকারীদের।
শুধু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নয় পাশাপাশি বিজেপি ও আরএসএস নেতাদের সম্পর্কে একাধিক তথ্য সংগ্রহের জন্য নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল হামিম। বৃহৎ কিছু পরিকল্পনা করেই কাজ করছিল সে এমনটাই মনে করছে তদন্তকারীরা। হামিমকে ১৪ দিনের এসটিএফ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। অপরদিকে তার বান্ধবী অর্পিতাকে শনিবার আদালতে তোলা হবে বলে জানা গিয়েছে। দু-জনকেই জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে তাদের পরিকল্পনার কথা জানার চেষ্টা করছে তদন্তকারীরা।