নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা কর্মসূচিতে বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশি পদক্ষেপ এবং আইনজীবীদের আটক করার ঘটনা নিয়ে এবার সরব হলেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ জন প্রাক্তনী। সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছেন তাঁরা। এই বিবৃতিতে সিনিয়র আইনজীবী শাদান ফারাসত এবং CJP-র পলিসি হেড মেহের পাসরিচার প্রতি সংহতি প্রকাশ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, শাদান ফারাসতকে দিল্লি পুলিশ হেনস্তা করেছে এবং মেহের পাসরিচাকে আটক করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, শাদান ফারাসত ২০০৯ সালে হার্ভার্ড ল স্কুলের প্রাক্তনী এবং মেহের পাসরিচা ২০২৫ সালে হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পাশাপাশি সমস্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার ও আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একইসঙ্গে, সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করে অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে আইনের শাসন মেনে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই বিবৃতির পরিপ্রেক্ষিতে সমাজমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে তারা লিখেছে, 'The world is watching!' অর্থাৎ, গোটা বিশ্ব নজর রাখছে। পাশাপাশি, মোদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগও তুলেছে তারা। দিল্লির বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের ভূমিকা এবং নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে বিতর্ক এবার আন্তর্জাতিক স্তরেও আলোচনায় উঠে এল।
গত ১০ অক্টোবর বিরাট প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একাধিক বিরোধী নেতা ও কর্মীকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। ব্যারিকেড, পুলিশি নজরদারি এবং জনসমাবেশ নিয়ন্ত্রণের কারণে বিক্ষোভকারীদের একাংশ নির্ধারিত স্থানে পৌঁছতে পারেননি বলে অভিযোগ। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে বহু মানুষকে আটক করার দাবিও করেছে সিজেপি। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে আটক হয়েছিলেন আইনজীবীরা। সুপ্রিম কোর্টের কাছ থেকে তাঁদের তুলে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। পরে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের হস্তক্ষেপে মুক্তি পান তাঁরা।