নিউজ ডেস্ক: পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। পরিবারের সঙ্গে মদিনার উদ্দেশে বিমানে ওঠার অপেক্ষায় ছিলেন হায়দ্রাবাদের বাসিন্দা মহম্মদ ইউসুফ আলি। কিন্তু সেই যাত্রাই শেষ পর্যন্ত পরিণত হল মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যু হল ৪৬ বছর বয়সি ইউসুফের। তাঁর দুই ছেলে এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩। আহত হয়েছেন ৩০০-রও বেশি মানুষ।
জানা গিয়েছে, গত ১০ অক্টোবর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রিয়াধ বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন ইউসুফ। তাঁদের গন্তব্য ছিল মদিনা। সেখান থেকে ওমরাহ পালনের পরিকল্পনা ছিল পরিবারের। বিমানবন্দরের চেক-ইন কাউন্টারের কাছে অপেক্ষা করার সময় আচমকাই আঘাত হানে একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইল। বিস্ফোরণের অভিঘাতে গুরুতর আহত হন ইউসুফ। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি। রবিবার তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে সৌদি আরবে ভারতীয় দূতাবাস।
এই হামলায় ইউসুফের পরিবারের সদস্যরাও আহত হন। তাঁর এক ছেলের হাঁটুতে গুরুতর চোট লেগেছে। অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়েছে বলে জানিয়েছেন হায়দ্রাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। অন্য ছেলেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ইউসুফের স্ত্রী ও মেয়েও হামলার সময় আহত হয়েছিলেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পরিবারের এমন বিপর্যয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে হায়দ্রাবাদে।
এদিকে, হামলার ভয়াবহতা সামনে এসেছে বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বিস্ফোরণের পর যাত্রী ও বিমানবন্দরে উপস্থিত মানুষজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন অনেকে। আচমকা হামলায় মুহূর্তের মধ্যে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক পরিস্থিতি।
এই হামলার জন্য ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। অসামরিক পরিকাঠামো ও সাধারণ মানুষকে নিশানা করার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতও। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইউসুফের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন এবং ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে পরিবারকে প্রয়োজনীয় সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। মৃতদেহ দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থাও করছে দূতাবাস।
ওমরাহ পালনের মতো পবিত্র উদ্দেশ্যে পরিবারের সঙ্গে যাত্রা শুরু করেছিলেন ইউসুফ। অথচ বিমানবন্দরের সেই অপেক্ষাই কেড়ে নিল তাঁর প্রাণ। বাবাকে হারিয়ে অসহায় পরিবার, আর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই ছেলের সুস্থতার অপেক্ষায় প্রিয়জনেরা। রিয়াধের এই হামলা ফের মনে করিয়ে দিল, যুদ্ধ ও সংঘাতের সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষকেই।
