কলকাতায় মঙ্গলবার পালিত হচ্ছে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ২১ জুলাই শহিদ স্মরণ দিবস। এ বছর একই দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবির আলাদা আলাদাভাবে কর্মসূচির আয়োজন করায় রাজনৈতিক মহলে বাড়তি কৌতূহল তৈরি হয়েছে। একদিকে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে কালীঘাটপন্থী শিবিরের সভা, অন্যদিকে মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সকালে ঋতব্রত শিবিরের সভাস্থলে উপস্থিত হন দলের একাধিক নেতা-নেত্রী, তাঁদের মধ্যে ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও। সাংবাদিকরা তাঁকে এবারের ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি অন্যবারের তুলনায় কতটা আলাদা এবং সভায় উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি স্পষ্ট বিরক্তি প্রকাশ করেন। চন্দ্রিমা বলেন, “এই এক কথা রোজ রোজ বলতে ভালো লাগে না। সরকার আমাদের সভা করার অনুমতি দিয়েছে। আমরা সেই জায়গায় শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি।”
সকালের দিকে ঋতব্রত শিবিরের সভায় ভিড় তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করে। অন্যদিকে, তারামণ্ডলের সামনে কালীঘাটপন্থী শিবিরের সভায় সকাল থেকেই ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সেই প্রসঙ্গেও চন্দ্রিমাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “ভালো তো... যে যেভাবে শহিদ তর্পণ করছে, করুক।” উপস্থিতি নিয়ে তিনি আর কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
এদিকে বিধানসভায় সম্প্রতি ২১ জুলাই সংক্রান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশের বিষয়েও প্রতিক্রিয়া দেন চন্দ্রিমা। তাঁর বক্তব্য, এই রিপোর্ট অনেক আগেই প্রকাশ হওয়া উচিত ছিল। দল রিপোর্টটি খতিয়ে দেখার পর আনুষ্ঠানিকভাবে মতামত জানাবে বলেও তিনি জানান।
ঋতব্রত শিবিরের আর এক নেতা শান্তনু সেনও সভাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তাঁরা এখানে এসেছেন। পাশাপাশি কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানান, রিপোর্টের বিষয়বস্তু দেখে তাঁর খারাপ লেগেছে এবং বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আরও আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।