২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশের মঞ্চ থেকে বিজেপি এবং দলত্যাগীদের বিরুদ্ধে একের পর এক তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের বক্তব্যে তিনি সংগঠন রক্ষা, রাজনৈতিক লড়াই এবং দলের প্রতীক নিয়ে আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিতও দেন। একই সঙ্গে দাবি করেন, নানা বাধা ও চক্রান্ত সত্ত্বেও তাঁদের কর্মসূচি সফল হয়েছে।
সভায় মমতা বলেন, দলের প্রতীক বা সম্মান কেড়ে নেওয়ার কোনও চেষ্টা হলে তিনি তা মেনে নেবেন না। তাঁর কথায়, “প্রতীক, টাকা, সম্মান কেড়ে নিলে ছেড়ে কথা বলব না। ব্যাট-বলের খেলা হবে। সিম্বল কেড়ে নিলে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাব। প্রয়োজন হলে আইনি লড়াই চালাব।”
পরোক্ষে শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি মুখ খুললে গত ১০ বছরের সব কথা বলে দেব। তৃণমূলে থেকে কে কী করেছে, মানুষের সামনে সব তুলে ধরব।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
বিজেপির কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, “ওরা ইনডোর করছে, আমরা আউটডোর করছি। যত বাধাই আসুক, আমরা থামব না। প্রয়োজন হলে ১৯৯৭ সালের মতো নতুন করে লড়াই শুরু করব। আমার কণ্ঠরোধ করলেও আমি পিছিয়ে যাব না।”
সভা বানচালের অভিযোগও তোলেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর দাবি, আগের রাত থেকে মঞ্চে ভাঙচুর, সাউন্ড লাইনের তার কেটে দেওয়া এবং কর্মসূচি ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, “বিজেপির লোকজন বারবার এসে তার কেটেছে। তাই সারারাত কর্মী-সমর্থকদের মঞ্চ পাহারা দিতে হয়েছে।”
আইনশৃঙ্খলা নিয়েও কেন্দ্র ও প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি জানান, আগামী দিনে জেলার পর জেলা ঘুরে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করবেন এবং কেউ তাঁদের রাজনৈতিকভাবে আটকাতে পারবে না।
দলত্যাগীদের উদ্দেশেও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যাঁরা দল ছেড়ে যাচ্ছেন, তাঁদের জন্য দুঃখ নেই। ছাত্র-যুবরাই তাঁদের জায়গা নেবে।” বক্তৃতার শেষেও তিনি দাবি করেন, সব বাধা পেরিয়ে তৃণমূলের লড়াই আগামীতেও একইভাবে চলবে।