জেলের ভিতর বন্দি অবস্থায় প্রয়াত হয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সম্প্রতি এমন জল্পনায় তোলপাড় হয়েছিল পাকিস্তান। এর পরই মুখ খুলল সে দেশের সেনা। ইমরানের মৃত্যুর খবরকে ভুয়ো বলে দাবি করেছে পাকিস্তানের সামরিক জনসংযোগ দফতর। আবার এর পরেই সাংবাদিক ওয়াজাহাত খান একটি ভিডিও পোস্ট করে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তাঁর কাছে ইমরানের মৃত্যুর কোনও নিশ্চিত খবর আসেনি। বরং সেনার তরফে এই প্রতিক্রিয়া আসায় তিনি মনে করছেন, ইমরান এখনও জীবিত রয়েছেন।
ওয়াজাহাতের দাবি, গত কয়েক মাসে প্রথম বার আইএসপিআর তাঁর রিপোর্টিং নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছে। তাঁর কথায়, ‘ভুয়ো’ বলুক বা যা-ই বলুক, সেনার এই প্রতিক্রিয়াই প্রমাণ করে যে ইমরান বেঁচে আছেন। তাঁর দাবি, এত দিন ধরে ইমরানকে নিয়ে পাক সেনার ‘নীরবতা’ ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সেই নীরবতা ভেঙে সেনা প্রতিক্রিয়া জানানোয় তিনি স্বস্তি পেয়েছেন বলেও জানিয়েছেন ওই সাংবাদিক।
বিতর্কের সূত্রপাত ওয়াজাহাতেরই একটি দাবিকে ঘিরে। তাঁর বক্তব্য ছিল, পাকিস্তানের জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সের তিন জন শীর্ষ আধিকারিকের মধ্যে ইমরানের পরিণতি নিয়ে গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে সেই তথ্য স্বাধীন ভাবে যাচাই করা হয়নি বলেও তিনি স্পষ্ট করেছিলেন। ওয়াজাহাত পরে জানান, তাঁর সূত্রগুলি ইমরান মারা গিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেনি। বরং সেনার অস্বাভাবিক নীরবতা দেখে তাঁদের আশঙ্কা হয়েছিল, ‘সবচেয়ে খারাপ কিছু’ হয়তো ঘটে থাকতেও পারে।
এ দিকে এই জল্পনার মধ্যেই ৭৩ বছরের ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ দাবি করেছে, পরিবারের সদস্য এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের যেন ইমরানের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়। ফলে ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সামনে আসেনি। সেনার অস্বীকার এবং সাংবাদিকের ব্যাখ্যার পর আপাতত বড় প্রশ্ন একটাই। জেলের ভিতরে ঠিক কেমন আছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেট অধিনায়ক?