ইসলামাবাদ, রেশমি ব্যানার্জি: বরফ গলল তবে! পুরোপুরি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেল ইমরান খান। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধান। যেই ইমরান খান দেশের সেনাপ্রধানকে ইতিহাসের ‘সবচেয়ে অত্যাচারী স্বৈরশাসক’ আখ্যা দিয়েছিলেন এবং প্রধানের বিরূদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন যে, তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর উপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়েছে। নিজের পাশাপাশি পরিবারের উপর নেমে আসা এই আঘাতকে মেনে নেন নি তিনি। ইমরান সাফ জানিয়েছিলেন, “ওরা যা-ই করুক না কেন, আমি কিছুতেই মাথা নত করব না।”
এবার সেই ইমরান খান বদলালেন নিজের কথা।জেল থেকে মুক্তি পেলে ইমরান খান দেশের সেনা বা সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও সংঘাতে যাবেন না। ইমরানের খানের এই মতের একদিকে যেমন প্রশংসা করেছেন অনেকে, তেমনি হঠাৎ এই মত পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে চর্চা।
সম্প্রতি সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন বন্দি প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী তথা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি। তিনি সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন এবং ইমরানের মন্তব্যকে সামনে এনেছেন। সাম্প্রতিক এক আইনি অগ্রগতির পর সেনাপ্রধান যাতে ‘ক্ষত নিরাময়ের হাত’ বাড়িয়ে দিতে পারেন, সেই বার্তাও দিয়েছেন তিনি। তবে কি মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই বরফ গলল? এমন মত বিশেষজ্ঞদের।
সুপ্রিম কোর্ট ৭৩ বছর বয়সি ইমরানকে চিকিৎসার জন্য ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশের পরই এমন মত প্রকাশ্যে এসেছে। বুখারি সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে ‘আশার নতুন আলো’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বুখারি স্পষ্ট জানান, মুক্তি পেলে ইমরান এমন কিছু করবেন না যাতে দেশের ক্ষতি হয়। তাঁর কথায়, দেশের ভালোর জন্য নিজের যন্ত্রণা ও আঘাতকে সংযত রাখতে হয়, চেপে যেতে হয়। বুখারি জানিয়েছেন, সেনার সঙ্গে তাঁদের কোনওরকম আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে না।
তবে সেনার সঙ্গে সমঝোতার বার্তা দিলেও আগামী ২৭-শে সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী পূর্বনির্ধারিত মিছিল কর্মসূচি চালিয়ে যাবে পিটিআই। ইমরানকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া, পরিবার, চিকিৎসক ও আইনজীবীদের দেখা করার অনুমতি এবং দ্রুত শুনানির দাবিতে এই বিক্ষোভ হবে। এই বিক্ষোভে আত্মগোপন করে থাকা নেতারাও সামিল হবেন বলে জানা গিয়েছে।
ক্ষমতা হারানোর পর থেকে একের পর এক আইনি জটিলতায় ও অভাব অভিযোগ জড়িয়ে পড়েন ইমরান। জানা যায়, ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে পরাজিত হন তিনি। এরপর তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রির অভিযোগ উঠে। শুধু তাই নয়, সামরিক ঘাঁটিতে হামলা উস্কানি এবং বেআইনি বিয়ের মতো একাধিক মামলার মুখে পড়েন ইমরান। একটি ছাড়া প্রায় সব মামলাতেই তাঁর সাজা স্থগিত বা বাতিল হয়েছে। তবে ইমরানের এই মত বদলকে স্বাভাবিকভাবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।