হাবিবুর রহমান, ঢাকা: ঢাকায় সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সাধারণ মানুষ অনেক মেধাবী। দুই দেশের তরুণ প্রজন্মের অনেক আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে যা করণীয়, তা করা সবার দায়িত্ব।
সোমবার সাক্ষাৎ শেষে ব্রিফিংয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, সাধারণ মানুষ চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভালো রাস্তা ও বিদ্যুৎ চায়। এসব নিশ্চিত করা যেতে পারে বাণিজ্যের মাধ্যমে। দুই দেশের সম্পর্কের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক-দুটি দিক রয়েছে। গণতন্ত্রে রাজনৈতিক ইস্যু থাকবেই, তবে সাধারণ মানুষ উন্নয়ন চায়। উন্নয়ন ছাড়া কিছুই হতে পারে না।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘ইন্টারডিপেন্ডেন্সি’ বা পারস্পরিক নির্ভরশীলতাই স্থায়ী সমাধান। উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ ভারতের ওপর এবং ভারত বাংলাদেশের ওপর নির্ভর করবে। এই নির্ভরতাই একটি পরিবারের মতো সম্পর্ক তৈরি করে। তিনি আরো বলেন, অর্থনীতি ও রাজনীতি দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাধারণ মানুষের খুব বেশি চাওয়া নেই, তারা শান্তি চায়। শান্তি থাকলে সমৃদ্ধি আসে।
দুই দেশের দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মকে শান্তি ও সমৃদ্ধি দেওয়া। পোশাক খাতে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা ব্যাবসায়িক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাই, রাজনীতি তার নিজের পথে চলবে।’ সাধারণ মানুষের যা পাওনা, তা দেওয়া দুই দেশের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে। চিনের পর ভারত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো এগিয়ে নিতে যেসব জায়গায় উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে, সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সোমবার সচিবালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে এসব কথা বলেন তিনি। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো এগিয়ে নিতে সীমান্তগুলো পুরোপুরি কার্যকর করা, বর্ডার হাট পুনরায় চালু এবং স্থলপথে সুতা আমদানি পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ল্যান্ড বর্ডারগুলো পুরোপুরি কার্যকর করা, বর্ডার হাট পুনরায় চালু করা এবং স্থলপথে সুতা আমদানি পুনরায় চালুর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া সাব্রুমসহ আরো দু-একটি সড়কের বিষয়ও ভারতীয় হাইকমিশনারের পক্ষ থেকে নজরে আনা হয়েছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক ট্রানজিশন হয়েছে। এরপর দুই দেশের পক্ষ থেকেই আন্তঃবাণিজ্যের ক্ষেত্রে কিছু বিধি-নিষেধ এসেছে। তা সত্ত্বেও গত বছর দুই দেশের আন্তঃবাণিজ্য প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার ছিল। এর অর্থ হলো, অর্থনৈতিক বিবেচনা অনেক সময় অনেক কিছুকে ছাপিয়ে যায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক স্বার্থের দিকটি দেখতে হবে। এর ফলে ভোক্তাদের কম মূল্যে পণ্য ও সেবা ভোগের সুযোগ করে দেওয়া সম্ভব হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরো জানান, ভারতের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের অবকাঠামো ও ডিজিটাল অবকাঠামোতে বিনিয়োগের জন্য দুই দেশের ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, বাণিজ্যিক সম্পর্কে গতি আনা এবং নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র খোঁজা একটি চলমান প্রক্রিয়া।