প্যারা অ্যাথলেটিক্সে নতুন ইতিহাস গড়ল ভারত। কমনওয়েলথ গেমসে পুরুষদের ১০০ মিটার টি-৪৭ বিভাগের ফাইনালে সোনা ও রুপো, দু'টিই জিতলেন ভারতীয় অ্যাথলিটরা। সোনা জিতলেন দিলীপ মাহাদু গাভিত, আর রুপো পেলেন মহম্মদ বাসিল মরসিংগানাকাথ। ১০.৭১ সেকেন্ডে রেকর্ড গড়ে সোনা নিশ্চিত করেন গাভিত। অন্যদিকে, ১০.৮৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে করে দ্বিতীয় হন বাসিল। ব্রোঞ্জ জেতেন ইংল্যান্ডের কেভিন স্যান্টোস।
গাভিতের এই সোনা চলতি গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের তৃতীয় সোনা। এর আগে ভারোত্তোলনে মীরাবাই চানু এবং প্যারা শটপুটে শর্মিলা ধনকর দেশের হয়ে সোনা জিতেছিলেন। গাভিত ও বাসিলের পদক জয়ের পর ভারতের ঝুলিতে এখন তিনটি সোনা, ন'টি রুপো এবং তিনটি ব্রোঞ্জ। সব মিলিয়ে পদক তালিকায় অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে ভারত।
বৃষ্টিভেজা ট্র্যাকে কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজের সেরাটা উজাড় করে দেন গাভিত। প্রতিযোগিতা শেষে তিনি জানান, শুরুটা প্রত্যাশামতো না হলেও ধীরে ধীরে ছন্দ ফিরে পান। খারাপ আবহাওয়ার কারণে শরীর গরম রাখতে এবং স্টার্টের সময় ঠিক করতে সমস্যা হচ্ছিল বলেও স্বীকার করেন তিনি। তবু শেষ পর্যন্ত গেমস রেকর্ড গড়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন তিনি।
তবে এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে একটি কঠিন সংগ্রামের গল্প। মহারাষ্ট্রের প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে গাভিত শৈশবে পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবে বাঁ হাত হারিয়েছিলেন। গ্রামে উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগও ছিল না। স্কুলে পড়ার সময় তাঁর প্রতিভা নজরে আসে কোচ বৈজয়ন্ত কালের। তিনিই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে প্রশিক্ষণ শিবিরে নিয়ে আসেন গাভিতকে। যদিও তখনও প্যারা অ্যাথলেটিক্স সম্পর্কে কোনও ধারণাই ছিল না গাভিতের। সাধারণ বিভাগেই প্রতিযোগিতা করে খেলো ইন্ডিয়া যুব গেমস এবং অনূর্ধ্ব-১৮ স্তরে পদক জিতে নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি।
নাসিকে নিয়মিত অনুশীলনের পর ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছে যান গাভিত। কিন্তু এখানেই থামতে রাজি নন তিনি। চাকরির কথা এখন ভাবছেন না বলেই স্পষ্ট জানিয়েছেন ভারতীয় স্প্রিন্টার। তাঁর লক্ষ্য আগামী সেপ্টেম্বরে-অক্টোবরে জাপানে অনুষ্ঠিত প্যারা এশিয়ান গেমস এবং এরপর লস অ্যাঞ্জেলেস প্যারালিম্পিক্সে দেশের হয়ে আরও পদক জয়। ইতিহাস গড়ার পরও তাই তাঁর চোখ এখন ভবিষ্যতের আরও বড় সাফল্যের দিকে।