নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের উপর হামলার ঘটনায় দোষীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানাল ভারত। রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের সামরিক উপদেষ্টা কর্নেল তরুণেন্দ্র প্রতাপ সিং জানিয়েছেন, বর্তমানে শান্তিরক্ষীরা অসম ও প্রযুক্তিনির্ভর নানা ধরনের হুমকির মুখে পড়ছেন। তাই তাঁদের উপর হামলাকারীদের কোনও ভাবেই ছাড় দেওয়া উচিত নয়। রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিরক্ষা অভিযান সংক্রান্ত বার্ষিক আলোচনায় বৃহস্পতিবার এই দাবি জানান তিনি।
রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিরক্ষা অভিযানে সেনা পাঠানোর ক্ষেত্রে অন্যতম বৃহত্তম অবদানকারী দেশ ভারত। এখনও পর্যন্ত ৫০টি অভিযানে তিন লক্ষেরও বেশি ভারতীয় সেনা অংশ নিয়েছেন। আলোচনায় কর্নেল সিং বলেন, ‘শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে ভারত শান্তিরক্ষা অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করে।’ তাঁর সংযোজন, ‘বর্তমানে শান্তিরক্ষীরা অসম ও প্রযুক্তিনির্ভর হুমকির মুখোমুখি হচ্ছেন। যাঁরা তাঁদের উপর হামলা চালাচ্ছেন, তাঁদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।’
শান্তিরক্ষীদের উপর অপরাধের তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের ২৫৮৯ নম্বর প্রস্তাবের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ২০২১ সালের অগস্টে ভারতের সভাপতিত্বে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে ওই প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। শান্তিরক্ষা অভিযানকে রাষ্ট্রপুঞ্জের মূল উদ্দেশ্য পূরণের ক্ষেত্রে ‘অপরিহার্য’ বলে উল্লেখ করে কর্নেল সিং জানান, ২০২৮-২৯ সালের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদে ভারতের প্রার্থিতার ক্ষেত্রেও এই বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারানো ১৮৪ জন ভারতীয় শান্তিরক্ষীকেও শ্রদ্ধা জানান তিনি। কর্নেল সিং বলেন, ‘এই অপরিহার্য কাজের প্রতি ভারতের অঙ্গীকার শুধু নীতিগত নয়। সাত দশকের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই অঙ্গীকার গড়ে উঠেছে। আমাদের শান্তিরক্ষীদের ঘাম ও রক্তের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই দায়িত্ববোধ।’
শান্তিরক্ষা অভিযান সফল করতে পর্যাপ্ত রাজনৈতিক সমর্থন, স্পষ্ট লক্ষ্য এবং প্রয়োজনীয় অর্থ ও সরঞ্জাম থাকা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘অভিযানের দায়িত্ব দেওয়ার সময়ই প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও সম্পদের ব্যবস্থা করতে হবে। তা হলে শান্তিরক্ষীদের কম সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আরও বেশি কাজ করার অনুরোধ জানিয়ে আমাদের বিব্রত হতে হবে না।’
যে দেশগুলি সেনা ও পুলিশ পাঠায়, শান্তিরক্ষা অভিযানের পরিকল্পনা এবং দায়িত্ব নির্ধারণে তাদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা উচিত বলে দাবি ভারতের। কর্নেল সিংয়ের মতে, কোনও অভিযানের দায়িত্ব চূড়ান্ত বা সংশোধন করার আগে সেনা ও পুলিশ পাঠানো দেশগুলির সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা প্রয়োজন। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট দেশের অগ্রাধিকারের সঙ্গে অভিযানের লক্ষ্য সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া জরুরি। রাজনৈতিক কারণে অপ্রয়োজনীয় ভাবে দীর্ঘদিন কোনও অভিযান চালিয়ে গেলে তা রাষ্ট্রপুঞ্জের সম্পদ নষ্ট করে এবং শান্তিরক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষুণ্ণ করে।
আলোচনায় শান্তিরক্ষা অভিযানে মহিলাদের অংশগ্রহণের বিষয়টিও তুলে ধরেন কর্নেল সিং। ১৯৬০ সাল থেকেই ভারত মহিলা শান্তিরক্ষী পাঠাচ্ছে। ২০০৭ সালে লাইবেরিয়ায় রাষ্ট্রপুঞ্জের অভিযানে বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ মহিলা পুলিশ ইউনিট পাঠিয়েছিল ভারত। বর্তমানে বিভিন্ন অভিযানে ভারতের ১৬০ জন মহিলা শান্তিরক্ষী কাজ করছেন। ২০১৯ সাল থেকে ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে মহিলা এনগেজমেন্ট টিমও পাঠানো হচ্ছে। শান্তিরক্ষা অভিযানের দায়িত্ব পালনে মহিলাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি।




