নয়াদিল্লি, স্নিগ্ধা চৌধুরী: ইথানল উৎপাদনের বাড়তি চাহিদা এবং আখের জোগান কমে যাওয়ায় দেশে চিনির দাম ক্রমেই বাড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রায় এক দশক পর ফের চিনি আমদানির পথে হাঁটার কথা ভাবছে কেন্দ্র। দেশের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০ লক্ষ টন চিনি শুল্কমুক্তভাবে আমদানির পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
ভারত এতদিন চিনি উৎপাদনে স্বনির্ভর থাকার পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম বড় রপ্তানিকারক দেশ হিসেবেও পরিচিত ছিল। কিন্তু চলতি মরশুমে পরিস্থিতি বদলেছে। একদিকে অনিয়মিত বর্ষার কারণে আখ উৎপাদনে প্রভাব পড়েছে, অন্যদিকে ইথানল তৈরির জন্য আখের রসের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে চিনিকলগুলিতে আখের জোগান কমেছে এবং উৎপাদনও ধাক্কা খেয়েছে।
গত কয়েক বছরে দেশে ইথানল উৎপাদন বাড়াতে কেন্দ্র একাধিক পদক্ষেপ করেছে। ইথানল তৈরিতে আখের রসের একটি বড় অংশ প্রয়োজন হয়। চিনিকলের তুলনায় ইথানল কারখানাগুলি কৃষকদের কাছ থেকে বেশি দামে আখ কেনায় অনেক কৃষকও সেদিকে ঝুঁকছেন। এর জেরে চিনিকলগুলিতে প্রয়োজনীয় আখের সরবরাহ কমছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে বাজারে চিনির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। মঙ্গলবার মহারাষ্ট্রের কোলহাপুরে, যা দেশের অন্যতম বড় চিনি উৎপাদন কেন্দ্র, কুইন্টালপ্রতি চিনির দাম ৫৪০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। গোটা দেশে পাইকারি বাজারে গড়ে প্রতি কেজি চিনির দাম প্রায় ৫২.৩ টাকা। খোলাবাজারে অনেক জায়গাতেই সেই দাম ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।
সামনেই দুর্গাপুজো, দীপাবলির মতো উৎসব। ফলে আগামী দিনে চিনির চাহিদা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এখন থেকেই ব্যবস্থা নিতে চাইছে কেন্দ্র। আমদানির ফলে কুইন্টালপ্রতি দাম সর্বোচ্চ প্রায় ৫০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রয়োজনে পরবর্তীতে আরও চিনি আমদানি করা হতে পারে। তবে ভারতের মতো বড় উৎপাদক দেশ আমদানির পথে হাঁটলে আন্তর্জাতিক বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে। কারণ সাধারণ সময়ে বিশ্বের মোট চিনির চাহিদার প্রায় ৮-১২ শতাংশ সরবরাহ করে ভারত। এবার সেই দেশকেই বাজারের ঘাটতি মেটাতে বিদেশের দিকে তাকাতে হচ্ছে।