নেপালে ফের অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সতর্কতা বাড়ল ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গ এবং বিহার সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। নেপালের বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও বিক্ষোভের খবর সামনে আসার পর নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সীমান্ত পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে।
নেপালের পূর্বাঞ্চলের সুনসারি জেলায় সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। গত জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে দেবানগঞ্জ ও হরিনগর এলাকায় দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে কার্ফু ও জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি নেপালি সেনার সাঁজোয়া গাড়িও সংবেদনশীল এলাকায় টহল দেয়।
এরই মধ্যে নেপালের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ ও অশান্তির খবর সামনে আসায় ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলিও সতর্ক হয়েছে। নেপালের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ ও উন্মুক্ত সীমান্ত থাকায় পরিস্থিতির কোনও রকম প্রভাব যাতে এদেশে না পড়ে, সে বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। ভারতের উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, সিকিম এবং পশ্চিমবঙ্গ—এই পাঁচ রাজ্যের সঙ্গে নেপালের সীমান্ত রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে দার্জিলিং জেলার নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি ও নাকাচেকিং চালানো হচ্ছে। সন্দেহজনক গতিবিধি চোখে পড়লেই পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় নথি পরীক্ষা করা হচ্ছে।
নেপালের সাম্প্রতিক অস্থিরতার মধ্যে সীমান্ত দিয়ে কোনও দুষ্কৃতী বা অন্য কোনও নিরাপত্তা-ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন ব্যক্তির প্রবেশ ঠেকানোই ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত যাতে অযথা ব্যাহত না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
সুনসারির পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় প্রশাসনও গুজবে কান না দিয়ে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছে।
তবে প্রতিবেশী দেশে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের নেপাল সীমান্তে নজরদারি জারি থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি পরিস্থিতির প্রতিটি পরিবর্তনের উপর নজর রাখছে।




