কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: অবিশ্বাস্য! এক কথায়, অবিশ্বাস্য! দুই দলের র্যাঙ্কিংয়ে ফারাক ৯৪। বিশ্বকাপ খেলা পানামা রয়েছে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ৪৪ নম্বরে। সেখানে ভারতের অবস্থান ১৩৮ তম স্থানে। এর পরেও খামতি ছিল না মনবীরদের লড়াইয়ে। আর সেই অদম্য লড়াইয়েই বেঙ্গালুরুর শ্রী কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে পানামাকে ১-১ স্কোরে আটকে দিল খালিদ জামিলের ছেলেরা। না, কষ্টেসৃষ্টে ড্র নয়। বরং শুক্র-সন্ধ্যার ঐতিহাসিক ম্যাচে ভারত কেন জিততে পারল না, তা নিয়ে রীতিমতো আফশোসই থাকবে সমর্থকদের।
লাতিন আমেরিকান প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এ দিন পুরোদস্তুর দাপট দেখিয়েছে সুনীল ছেত্রীহীন ভারতীয় দল। প্রথমার্ধের শেষ দিকে রায়ান উইলিয়ামসের দুরন্ত গোলে এগিয়ে গিয়েছিল তারা। তবে প্রতিপক্ষ যে ধারেভারে অন্ততঃ কয়েকশ যোজনই এগিয়ে। দ্বিতীয়ার্ধে ওমর ভ্যালেন্সিয়ার অসাধারণ বাঁ-পায়ের শটে সমতা ফেরায় পানামা। এর পরেও একাধিক সুযোগ এসেছিল ভারতের কাছে। তবে শেষ পর্যন্ত আর গোল না হওয়ায় ১-১ ফলেই শেষ হল ম্যাচ।
ম্যাচের শুরু থেকেই অবশ্য বল দখলে রেখে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করছিল পানামা। কিন্তু ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে শুরু করে ভারত। এই সময় একাধিকবার পানামার রক্ষণে আতঙ্ক তৈরি করেছিলেন রায়ান উইলিয়ামস। ১৯ মিনিট নাগাদ তাঁর একটি শট অল্পের জন্য বেরিয়ে যায় বাইরে। এরপ র আরেকবার বক্সের প্রান্ত থেকে তাঁর নিচু শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। প্রথমার্ধে গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সান্ধুও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সেভ করে ভরসা দেন দলকে। অন্যদিকে অনোয়ার আলির নিখুঁত ক্লিয়ারেন্স থামিয়ে দেয় পানামার একটি বিপজ্জনক আক্রমণ।
অবশেষে ৪৩ মিনিটে ভারতীয় সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভাসান রায়ান। লম্বা পাস পেয়ে দ্রুত বিপক্ষের বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করা দলের বিরুদ্ধে ভারতের এই ১-০ এগিয়ে যাওয়া স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত। বিরতির পর অবশ্য ঘুরে দাঁড়ায় পানামা। একের পর এক আক্রমণে ভারতীয় রক্ষণকে চাপে ফেলতে থাকে তারা। ৬৬ মিনিটের কাছাকাছি সেই চাপ থেকেই আসে সমতাসূচক গোল।
বক্সের বাইরে থেকে বাঁ-পায়ে দুরন্ত শট নেন ওমর ভ্যালেন্সিয়া। ভারতীয় গোলরক্ষক গুরপ্রীতের পক্ষে সেই শট আটকানো সম্ভব হয়নি। ম্যাচ ১-১ হয়ে যাওয়ার পর দু’দলই মরিয়া হয়ে উঠেছিল জয়সূচক গোলটির জন্য। আর সেই সুযোগও এসেছিল ভারতের কাছে। রহিম আলির ক্রস থেকে বক্সে বল পেয়ে ব্যাকহিল করার চেষ্টা করেন মনবীর সিং। কিন্তু ঠিকমতো শট নিতে পারেননি। শেষদিকে পানামা ফের চাপ বাড়ালেও আর ভাঙতে পারেনি ভারতীয় রক্ষণ। ফলে বিশ্বকাপ খেলা দলের বিরুদ্ধে কার্যত একটি সুখস্মৃতি নিয়েই মাঠ ছাড়ল ভারত।
