শ্রীলঙ্কা একাদশের বিরুদ্ধে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে রোমাঞ্চকর জয় ভারতের। ২০৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুভমান গিলের দল জিতল ৪ উইকেটে। শুরুটা দারুণ করেছিলেন যশস্বী জয়সওয়াল এবং অধিনায়ক গিল। দু’জনে মিলে ভাল জুটি গড়ে ভারতকে জয়ের পথে এগিয়ে দেন। কিন্তু নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে একটা সময় চাপেও পড়ে গিয়েছিল ভারত। তৈরি হয়েছিল ম্যাচ ড্র হওয়ার সম্ভাবনাও। শেষ পর্যন্ত ব্যাট হাতে ত্রাতার ভূমিকায় মহম্মদ সিরাজ। বোলার থেকে এদিন যেন তিনি আচমকাই হয়ে উঠলেন ‘ফুলটাইম’ ব্যাটার!
রান তাড়া করতে নেমে একটা সময় ধ্রুব জুরেল (১৭) এবং ঋষভ পন্থ (২৮) পর পর আউট হয়ে যাওয়ায় মনে হচ্ছিল বোধহয় ড্রয়ের দিকেই গড়াচ্ছে খেলা। কিন্তু শেষ ওভারের প্রথম তিন বলে তিনটি ছক্কা মারেন সিরাজ। এর পর পঞ্চম বলে মারেন একটি বাউন্ডারি। সার্বিকভাবে মাত্র ১৫ বলে অপরাজিত ৩২ রানের ঝোড়ো ইনিংসে টিম ইন্ডিয়াকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেন তিনি। এর আগে ৬১ রান করে অবসৃত হন ওপেনার জয়সওয়াল। সব মিলিয়ে আসন্ন দুই টেস্টের সিরিজের আগে অনুশীলনটা মোটের ওপর ভালোই হল গুরু গম্ভীরের ছেলেদের। যদিও এই ফলাফলের থেকেও ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের মুখে বেশি হাসি ফোটাবে অধিনায়ক গিলের ফিরে আসাটা।
গত বৃহস্পতিবারের অনুশীলনে একই দিনে দু’বার চোট পেয়েছিলেন গিল। প্রথমে নেটে ব্যাট করার সময় ডান হাতের অনামিকায় চোট লাগে। পরে স্লিপে ক্যাচিং অনুশীলনের সময়ও সেই হাতে আঘাত পান। এর পর ৩ দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দু’দিন তাঁকে নামানো হয়নি মাঠে। চোট কতটা গুরুতর, তা নিয়েও স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি টিম ম্যানেজমেন্টের তরফে। এই পরিস্থিতিতে রবিবার ভারত অধিনায়ক শুধু নামলেনই না, চতুর্থ ইনিংসে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ঝকঝকে ৪৪ রান। জয়সওয়ালের সঙ্গে তাঁর প্রথম উইকেটের জুটিই গড়ে দেয় ভারতের জয়ের ভিত।
এ দিকে চোটের কারণে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে আসন্ন টেস্ট সিরিজ থেকে ছিটকে যেতে পারেন সাই সুদর্শন। তাঁর পরিবর্তে ভারতীয় দলে জায়গা পেতে পারেন দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত সরফরাজ খান। বিসিসিআই সূত্রে খবর, সুদর্শনের চোটের বিষয়টি এখনও পর্যালোচনায় রয়েছে। তিনি একান্তই সিরিজে খেলতে না পারলে তাঁর বদলি হিসাবে সরফরাজকেই দলে নেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে একের পর এক চোটের চোটের ধাক্কায় যখন দলের প্রথম একাদশ নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তখন গিলের প্রত্যাবর্তনের পাশাপাশি সিরাজের এই অপ্রত্যাশিত ব্যাটিং-ঝলকও বাড়তি স্বস্তি দিতে পারে ভারতীয় শিবিরকে।