স্পোর্টস ডেস্ক: অলিম্পিকে ১০ বার সোনা জিতেছে দক্ষিণ কোরিয়া। তাদের সামনে পাত্তা পায় না কেউই। সেই শক্তিশালী প্রতিপক্ষকেই হারিয়ে এশিয়ান গেমসে ইতিহাস গড়ল ভারতের মহিলা রিকার্ভ তিরন্দাজ দল। শুক্রবার ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫-৩ সেট পয়েন্টে হারিয়ে এশিয়াডে প্রথমবার সোনা জিতলেন অঙ্কিতা ভকত, কীর্তি শর্মা ও কুমকুম মহোদ। প্রতিকূল আবহাওয়া, প্রবল হাওয়া—কোনও কিছুই তাঁদের লক্ষ্যভ্রষ্ট করতে পারেনি। বরং চাপের মুখে স্নায়ুর লড়াইয়ে বাজিমাত করে ভারতের মুকুটে জুড়ল আরও একটি সোনার পালক। এই প্রথম এশিয়ান গেমসে মহিলা রিকার্ভের সোনা এল ভারতের ঘরে।
ফাইনালে শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে চলছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। প্রথম দু’টি সেটে সমান ৫৪ ও ৫৬ পয়েন্ট করে পায় ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া। ফলে শুরুতে কোনও দলই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়নি। কিন্তু তৃতীয় সেটে ছবিটা বদলে যায়। পর পর তিনটি তিরে ৮ পয়েন্ট করে পেয়ে চাপে পড়ে যায় কোরিয়ার দল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারতীয় তিরন্দাজেরা তৃতীয় সেটে ৫৫ পয়েন্ট তুলে নেন। ফলে ৪-২ সেট পয়েন্টে এগিয়ে যায় ভারত। শেষ সেটে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে কোরিয়া। ৫৪ পয়েন্ট তুলে সমতা ফেরালেও শেষ পর্যন্ত ভারতের জয় আটকাতে পারেনি তারা।
শেষ সেটে কীর্তি শর্মার একটি তির প্রথমে ৮ পয়েন্ট পেয়েছিল। পরে রিভিউয়ের মাধ্যমে সেটিকে ৯ পয়েন্ট দেওয়া হয়। তাতেই ভারতের মোট স্কোর দাঁড়ায় ৫৪। কোরিয়াও সমান পয়েন্ট পেলেও সেট জিতে নেয় ভারত। আর তাতেই নিশ্চিত হয়ে যায় ঐতিহাসিক সোনা। অভিজ্ঞ অঙ্কিতা ভকতের সঙ্গে কীর্তি ও মাত্র ১৭ বছরের কুমকুমের এই সাফল্য ভারতীয় তিরন্দাজির ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিল। এর আগে সেমিফাইনালে চিনকে ৫-১ সেটে হারিয়ে প্রথমবার এশিয়ান গেমসের ফাইনালে উঠেছিল ভারত।
এশিয়াডে ভারতের মহিলা রিকার্ভ দলের এই সাফল্য এক দিনে আসেনি। গত মে মাসে সাংহাইয়ে বিশ্বকাপে পাঁচ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সোনা জিতেছিল ভারত। সেই প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালেও হারিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়াকে। এ বার এশিয়ান গেমসের মঞ্চেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন অঙ্কিতারা। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে হাংঝৌ এশিয়াডে এই বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছিল ভারত। এ বার সেই পদককে সোনায় বদলে দিলেন তাঁরা। চলতি গেমসে এটি ভারতের তিরন্দাজিতে চতুর্থ সোনা। এর আগে পুরুষদের কম্পাউন্ড, মহিলাদের কম্পাউন্ড এবং মিক্সড কম্পাউন্ড দল সোনা জিতেছিল। এবার রিকার্ভেও সোনার হাসি ভারতীয় শিবিরে।
