হাবিবুর রহমান, ঢাকা: বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সোমবার রাতে দিল্লি গেছেন। বাংলাদেশে বেশ চর্চায় আছেন দীনেশ ত্রিবেদী। কেননা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে তিনি মুখ্য পালন করছেন বলে বাংলাদেশের মানুষের ধারনা। এছাড়া বাংলাদেশের কূটনৈতিক সূত্র বলছে, দিল্লিতে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন দীনেশ ত্রিবেদী। তবে সেখানে কি আলোচনা হতে পারে তা জানা যায়নি। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ঢাকার বার্তা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করতে পারেন। এছাড়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইস্যুতে ঢাকার শর্ত নিয়েও আলোচনা করতে পারেন।
এদিকে গত কয়েকদিন ধরে রাজধানী ঢাকায় জোর আলোচনা চলছে যে, নভেম্বরের শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরে যেতে পারেন। অবশ্য ঢাকার বিদেশ মন্ত্রক থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। সোমবার বাংলাদেশের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুবিধাজনক সময়ে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাবেন। চলতি বছর প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ঢাকা চায় অনুকূল পরিবেশে এবং যথাযথ দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মাধ্যমে এই সফর হোক।’
তবে কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমার কথা জানাননি তিনি। বৈঠকে আসলে কী আলোচনা হবে, তা এখনো অনুমানের পর্যায়েই রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছে। এর আগেও আলোচনা শুরু হয়েছিল, কিন্তু দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তা থমকে যায়। পরে ঢাকার পক্ষ থেকে সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়, তেমন পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যেতে পারেন। তবে সফরের সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অনুকূল পরিবেশে এবং যথাযথ দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মধ্য দিয়ে সফরটি হোক।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু একটি ফোনকলে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। দুই দেশ আলোচনা চালাচ্ছে এবং বিষয়গুলো ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলেও জানান তিনি।ভারতীয় হাইকমিশনারের ভূমিকার প্রশংসাও করেন হুমায়ুন কবির। তাঁর ভাষ্য, ত্রিবেদী বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন এবং ঢাকায় ভালো কাজ করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নয়াদিল্লি হাইকমিশনারের মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণকে যথাযথ গুরুত্ব দেবে এবং বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর মতামতের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখাবে। ঢাকার প্রকাশ্য অবস্থান বলছে, সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সরকার আগ্রহী, তবে তা হতে হবে অনুকূল পরিবেশে।
