বাংলাদেশে পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরা সীমান্তে এক বাংলাদেশি বৃদ্ধকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ধরে নিয়ে যাওয়ার জেরে ভারতীয় চা চাষি দীপঙ্কর গোপ (৩৫) কে আটক করেছে স্থানীয়রা। স্থানীয়দের অভিযোগ সাতমেরা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে আখ চুরি করার সময় তারা তাকে আটক হয়েছেন। পরে তাকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মাধ্যমে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আটক দীপঙ্কর গোপ (৩৫) ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ থানার তসরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার মিশ্রিপাল গোপের ছেলে।
বাংলাদেশের পুলিশ জানায়, গত শনিবার সকালে সাতমেরা-বিরাজোত সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন দীপঙ্কর গোপ। এরপর বিরাজোত এলাকায় একটি আখখেতে ঢুকে আখ চুরি করার সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করেন। পরে তাকে স্থানীয়দের হেফাজতে রাখা হয়।
আটকের পর স্থানীয়রা দীপঙ্করকে ভারতের কাছে হস্তান্তরের বিনিময়ে দেশটিতে আটক বাংলাদেশি নাগরিক তমিজউদ্দীনকে ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। গত বুধবার সকালে গরু খুঁজতে বিরাজোত সীমান্ত এলাকায় গেলে বিএসএফ তমিজউদ্দীনকে (৭৮) ধরে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় দীপঙ্করকে ফেরত দেওয়া ও তমিজউদ্দীনকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠকে বিষয়টির তাৎক্ষণিক সমাধান না হওয়ায় স্থানীয়রা পরে দীপঙ্করকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেন।
নিখোঁজ তমিজ উদ্দীনের ছেলে আজাহার জানান, তার বাবা বয়স্ক এবং কানে কম শোনেন। তিনি কোনো অপরাধ করেননি, কেবল গরু খুঁজতে গিয়ে অসাবধানতাবশত সীমান্তের কাছে গিয়েছিলেন। বাবাকে ফিরে পাওয়ার দাবিতেই স্থানীয়রা ভারতীয় নাগরিককে আটকে রেখেছে এবং তমিজ উদ্দীনকে ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত দীপঙ্করকে ছাড়া হবে না বলে দাবি উঠেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে এবং উভয় নাগরিককে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুরমারী সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে আবারও পতাকা বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে দীপঙ্কর গোপকে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে বিজিবি।
পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল বলেন, ভারতীয় নাগরিক দীপঙ্কর গোপ অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন। স্থানীয়রা তাকে আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পরে বিজিবি তাকে থানায় দিয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।