বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের অগ্নিগর্ভ হরমুজ প্রণালী। পশ্চিম এশিয়ার অশান্তির জেরে ফের বিপদের মুখে বহু ভারতীয় নাগরিক। রবিবার ভোরে ওমান উপকূলের কাছে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ জিএফএস গ্যালাক্সিতে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। জাহাজে থাকা ১১ জন ভারতীয় নাগরিকের মধ্যে ১০ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হলেও এখনও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁকে খুঁজে বের করতে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে উদ্ধারকাজে সহায়তা করছে। পাশাপাশি এই অভিযানে সহযোগিতার জন্য ওমান কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছে নয়াদিল্লি। শুধু হামলার নিন্দাই নয়, পশ্চিম এশিয়ায় দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের দাবিও তুলেছে ভারত।
বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, বাণিজ্যিক জাহাজের উপর ধারাবাহিক হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আলোচনার মাধ্যমে কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করে এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন মেনে আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ ও নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ভারত। বাণিজ্যিক জাহাজ ও অসামরিক পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ করারও দাবি করা হয়েছে।
এদিকে হামলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে মুখোমুখি হয়েছে আমেরিকা ও ইরান। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, সাইপ্রাসের জাহাজটিতে হামলার জন্য দায়ী ইরান। হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিনরুম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন প্রশাসন। এর পাল্টা জবাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে গোলাবর্ষণ করেছে।
অন্যদিকে তেহরানের দাবি, হরমুজ প্রণালী সতর্কতামূলকভাবে বন্ধ ঘোষণা করার পরও একটি জাহাজ অনুমতি ছাড়া ওই পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। সেই কারণেই গোলাবর্ষণের মধ্যে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরান পুনরায় স্পষ্ট করেছে, তাদের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনও জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। পাশাপাশি মার্কিন হামলার জবাবে পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার একাধিক ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানারও দাবি করেছে ইরান। ফলে অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে আবারও বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে উঠেছে।