হরমুজ প্রণালী এবং অপরিশোধিত তেল রফতানি ইস্যুতে এবার আমেরিকাকে সরাসরি কড়া হুঁশিয়ারি দিল ইরান। দেশটির সংসদের স্পিকার ও দেশের প্রধান আলোচক মহম্মদ বাঘের ঘালিবফ ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন যে, ইরানকে যদি আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রি করতে না দেওয়া হয়, তাহলে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য কোনও দেশকেও তেল রফতানি করতে দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বিবৃতি পোস্টে ঘালিবফ লেখেন, 'যেখানে আমরা তেল বিক্রি করতে পারব না, সেখানে অন্য কাউকেও তেল বিক্রি করতে দেওয়া হবে না। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনও পরিকাঠামোরই নিরাপত্তা থাকবে না। হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নির্ভর করছে মার্কিন বাহিনীর সরে যাওয়ার উপর। আমরা আগেই বলেছি, এই প্রণালীর পরিস্থিতি আর যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে যাবে না।'
এদিকে, শান্তি বৈঠক নিয়ে দীর্ঘ টালবাহানার পর মধ্যপ্রাচ্যে ফের জ্বলে উঠেছে যুদ্ধের আগুন। টানা ১২ দিন ধরে ইরানে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন সেনা। বুধবার সেন্টকম এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ এবং নিরীহ নাবিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইরান। সেই প্রেক্ষিতেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে তেহরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম।
অন্যদিকে, ইরানের অভিযোগ, আমেরিকা তাদের সেতু, রেলস্টেশন, বিমানবন্দর-সহ গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। এরই পাল্টা জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করছে তেহরান। মঙ্গলবার ইসলামিক আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা কুয়েত ও বাহারিনে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে আরও বড় আকারের হামলা চালানোরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।