মুম্বই, নীলাঞ্জন দাশগুপ্ত: মুম্বইয়ের লোকাল বাজারে ৬০ টাকা দিয়ে এক প্লেট পানিপুরি কিনে দাম নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। সেই রুশ ইনফ্লুয়েন্সারেরই এবার মুখে অন্য সুর। দুবাই বিমানবন্দরে গিয়ে একই ধরনের পানিপুরির দাম দেখে কার্যত নিজের আগের মন্তব্যই ফিরিয়ে নিলেন তিনি। বললেন, ‘‘আমি ভুল ছিলাম।’’
রুশ মডেল, অভিনেত্রী এবং রিয়্যালিটি শোয়ের পরিচিত মুখ ইরিনা রুদাকোভা-র এই ভিডিয়োই এখন নেটদুনিয়ায় চর্চার বিষয়। মুম্বইয়ের লোকসান্ডওয়ালা মার্কেটে ৬০ টাকার পানিপুরি দেখে যিনি বার বার অবাক হয়েছিলেন, তিনিই দুবাইয়ের টার্মিনাল ১-এ ৪২ দিরহাম, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১০৯৬ টাকা দামের পানিপুরি দেখে মুম্বইয়ের সেই ৬০ টাকার প্লেটকেই সস্তা বলে মেনে নিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত প্রায় তিন সপ্তাহ আগে। ২৪ জুলাই মুম্বইয়ের লোকসান্ডওয়ালা মার্কেটে গিয়ে এক পানিপুরি বিক্রেতার কাছে দাম জানতে চেয়েছিলেন ইরিনা। বিক্রেতা ৬০ টাকা বলতেই তাঁর চোখ কপালে ওঠে। ‘‘৬০ টাকা!’’ বার বার বিস্ময় প্রকাশ করতে দেখা যায় তাঁকে। সেই ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা।
তবে গল্প সেখানেই শেষ হয়নি। পরে নিজেই পানিপুরি চেখে দেখেন ইরিনা। ১ অগস্ট প্রকাশিত সেই ভিডিয়োর ক্যাপশনে জানান, মুম্বইয়ের পানিপুরি তাঁর বেশ ভালই লেগেছে। অর্থাৎ দাম নিয়ে আপত্তি থাকলেও স্বাদ নিয়ে বিশেষ অভিযোগ ছিল না তাঁর।
এর পরেই এল আসল ‘টুইস্ট’। দুবাইয়ের টার্মিনাল ১-এ পানিপুরির দাম দেখে কার্যত নিজের আগের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ালেন ইরিনা। নতুন ভিডিয়োয় তাঁকে বলতে শোনা যায়, মুম্বইয়ের ৬০ টাকার পানিপুরি নিয়ে তিনি অনেক অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু দুবাইয়ে এসে ৪২ দিরহাম অর্থাৎ প্রায় ১০৯৬ টাকা দাম দেখে তাঁর মনে হয়েছে, মুম্বইয়ের সেই পানিপুরি আসলে বেশ সস্তাই!
হাস্যরসের সুরেই ইরিনা জানান, এই দাম দেখার পর তিনি আবার মুম্বই ফিরে যেতে চান। তাঁর এই ‘ভুল স্বীকারের’ ভিডিয়োও দ্রুত ভাইরাল হয়েছে। মুম্বইয়ের ৬০ টাকা বনাম দুবাইয়ের ১০৯৬ টাকা দুই শহরের একই খাবারের দামের এই বিপুল ফারাকই নেটাগরিকদের আলোচনার মূল বিষয় হয়ে উঠেছে।
ভারতে দীর্ঘদিন ধরে থাকা ইরিনা রুদাকোভা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ। ২০ বছর বয়সে ভারতে এসে মডেলিং ও অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। ‘রিয়্যালিটি কুইন্স অফ দ্য জঙ্গল’-এর দ্বিতীয় সিজনে জয়ী হয়ে ১৫ লক্ষ টাকা পুরস্কারও পেয়েছিলেন। ২০২৪ সালে ‘বিগ বস মরাঠি’-র পঞ্চম সিজ়নে প্রথম বিদেশি প্রতিযোগী হিসাবেও অংশ নেন। মরাঠি বলার চেষ্টা এবং প্রাণখোলা স্বভাবের জন্য দর্শকদের মধ্যেও জনপ্রিয়তা পান তিনি।
পানিপুরি নিয়ে তাঁর এই ছোট্ট অভিজ্ঞতা অবশ্য আরও এক বার দেখিয়ে দিল কোনও খাবারের দাম শুধু সংখ্যায় বিচার করলে অনেক সময় হিসাবটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। মুম্বইয়ের রাস্তায় ৬০ টাকা যে দাম দেখে ‘বেশি’ মনে হয়েছিল, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দুনিয়ায় পৌঁছে সেটিই হয়ে গেল তাঁর চোখে ‘বেশ সস্তা’।