মালদা, নিউজ ডেস্ক: প্রতিবছর শরৎ এলে যেই জায়গাটিকে ঘিরে তৈরি হয় আলাদা আবহ, এবার সেই জায়গাতেই যেন ছন্দপতনের আশঙ্কা। পুজোর প্রস্তুতির বদলে উঠেছে নানা প্রশ্ন, জমেছে ক্ষোভ। শেষ পর্যন্ত কি এবারও আগের মত জ্বলবে পুজোর প্রদীপ? নাকি কোনও সিদ্ধান্তের জেরে থমকে যাবে বছরের পর বছর ধরে চলে আসা সেই আয়োজন? এই প্রশ্ন ঘিরে সরগরম মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লকের তালগ্রাম এলাকা।
মালদার হরিশচন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লকের ঐতিহ্যবাহী তালগ্রাম হাটের দুর্গা পুজো ঘিরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। প্রতিবছর এই পুজোর যাবতীয় খরচ বহন করে সাদলিচক হাই স্কুল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু, অভিযোগ চলতি বছরে পুজোর জন্য অর্থ দিতে অস্বীকার করেছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক সেতাবুর রহমান। বিষয়টি সামনে আসতেই ক্ষোভ দেখা গিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। পুজো বন্ধের চক্রান্তের অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার বিডিওর দফতরে গণ ডেপুটেশন জমা করেন পুজোর উদ্যোক্তারা। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই পুজোর সঙ্গে এলাকার মানুষের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। ফলে, কোনওভাবেই পুজো বন্ধ হতে দেওয়া যাবেনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাদলিচক হাই স্কুলের জমিতেই বসে তালগ্রাম হাট। সেই হাট থেকে প্রতি বছর যে আয় হয়, তা স্কুলের তহবিলে জমা পড়ে। সেই তহবিল থেকেই এতদিন দুর্গা পুজো এবং আদিবাসী মেলার মতো বিভিন্ন অনুষ্ঠানের খরচ বহন করা হত। তবে, স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি বর্তমানে পশুহাট বন্ধ রয়েছে। ফলে, হাট থেকে আগের মত আয় না থাকায় এবছর পূজোর খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। এই নিয়েই তৈরি হয়েছে মূল জটিলতা। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা করে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে হরিশচন্দ্রপুর ২ ব্লকের বিডিও রাজা আদক। তাঁর আশ্বাসে আপাতত কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও পুজো উদ্যোক্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপি সম্পাদক রুপেশ আগরওয়াল কটাক্ষ করে বলেন, প্রধান শিক্ষক মনে করেছেন টাকা না দিলে পুজো বন্ধ হয়ে যাবে। তাঁর দাবি, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। তবে, প্রশাসনের তরপে নির্বিঘ্নে পুজোর আয়োজনের আশ্বাস মিললেও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য এবার কিভাবে বজায় থাকবে, তা নিয়ে এখন উদ্বেগের মধ্যে পূজো উদ্যোক্তারা। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে সমস্যার জট খুলবে, নাকি অর্থের জটিলতায় থমকে যাবে তালগ্রামের বহু বছরের ঐতিহ্যময় পুজো, এই উত্তরের অপেক্ষাতে স্থানীয় বাসিন্দারা।
