স্পোর্টস ডেস্ক: ভারতীয় ফুটবলে নতুন যুগের সূচনা। দীর্ঘ অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ১০ অক্টোবর শুরু হয়েছে ২০২৬-২৭ মরশুমের ভারতীয় সুপার লিগ। তবে এ বারের পরিবর্তন শুধু মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নয়। প্রথমবার লিগের বাণিজ্যিক অধিকারের দায়িত্ব পেয়েছে অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলি। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও গুরুত্বপূর্ণ পরিচালনগত তদারকির দায়িত্বে থাকলেও লিগের বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ গড়ার ভার এখন ক্লাবগুলির হাতে। এই মডেল ভারতীয় ফুটবলকে কতটা স্থিতিশীল করতে পারে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
এ বার লিগে খেলছে ১৩টি দল— মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট, ইস্টবেঙ্গল, বেঙ্গালুরু এফসি, চেন্নাইয়িন এফসি, এফসি গোয়া, ইন্টার কাশী, কেরালা ব্লাস্টার্স, মুম্বই সিটি এফসি, নর্থইস্ট ইউনাইটেড, ওড়িশা এফসি, পাঞ্জাব এফসি, স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লি এবং চার্চিল ব্রাদার্স। কলকাতার দুই প্রধানের পাশাপাশি মুম্বই, গোয়া ও বেঙ্গালুরুর মতো শক্তিশালী দলগুলিও খেতাবের লড়াইয়ে নজর কাড়তে চাইবে।
এ বারের অন্যতম আকর্ষণ চার্চিল ব্রাদার্সের অন্তর্ভুক্তি। গোয়ার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি জামশেদপুর এফসির খেলার স্বত্ব অধিগ্রহণ করেছে। সেই সঙ্গে জামশেদপুরের ১২ জন ফুটবলার ও দুই কোচের চুক্তিও বহাল রাখা হয়েছে। ফলে নতুন নাম নিয়ে খেললেও দলের সঙ্গে থাকছে পূর্ব অভিজ্ঞতা। অন্য দিকে, প্রশাসনিক ফি জমা দিতে না পারায় আই লিগ জয়ী ডায়মন্ড হারবার এফসি এ বার শীর্ষ লিগে জায়গা পায়নি।
এ বার ফিরেছে ঘরের মাঠ ও প্রতিপক্ষের মাঠে খেলার পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা। অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের মে পর্যন্ত চলবে লিগ। মোট ১৬৩টি ম্যাচের সূচিতে রয়েছে লিগ পর্বের পাশাপাশি প্লে-অফও। পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দল জিতবে লিগ শিল্ড, আর প্রথম ছয় দল লড়বে আইএসএল কাপের জন্য।
সম্প্রচার চলাকালীন দর্শকসংখ্যা বাড়ানোর জন্য এবার বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দর্শকদের কথা মাথায় রেখে শনিবারে ও রবিবারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও প্রথম কয়েকটি ম্যাচের সম্প্রচার ঠিকভাবে হয়নি। ক্লাবগুলির হাতে বাণিজ্যিক দায়িত্ব আসায় স্পনসর, সম্প্রচার, দর্শকসংযোগ এবং ভারতীয় ফুটবলার তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে আর্থিক স্বচ্ছতা, নিয়মিত সূচি ও প্রতিযোগিতার মান নিশ্চিত না হলে পরিবর্তন অর্থহীন হয়ে পড়বে। তাই এ বারের আইএসএল শুধু খেতাবের লড়াই নয়, ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনেরও পরীক্ষা।




