জলপাইগুড়ি, নিউজ ডেস্ক : একটি সাধারণ ক্লাসের কথা বলে ডেকে পাঠানো হয়েছিল ছাত্রীকে। কিন্তু এরপর যা ঘটনা ঘটেছিল তা নিয়ে শুরু হয় তদন্ত, গ্রেফতার এবং দীর্ঘ আইনের লড়াই। প্রায় দু বছর ধরে চলা সেই মামলায় অবশেষে বৃহস্পতিবার আদালতের রায়ে বড়সড় শাস্তির মুখে পড়লেন এক গৃহ শিক্ষক। দীর্ঘদিন পর কিছুটা হলেও নিশ্চিন্ত হলেন তিনি।
ঘটনাটি ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের। সময় কেটেছে প্রায় দুই বছর। জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি থানা এলাকায় এই ঘটনায় এক দশম শ্রেণীর ছাত্রীর পরিবারের তরফে গুরুতর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল সেই সময়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কোচিং সেন্টারের ইংরেজি শিক্ষক নিতাই বিশ্বাসকে গ্রেফতার করেছিল। পরিবারের অভিযোগ ছিল, স্পেশাল ক্লাস করানোর নাম করে ছাত্রীকে ডেকে পাঠিয়ে ছিলেন অভিযুক্ত ওই শিক্ষক। এরপর জোর করে তাঁকে একটি রিসোর্টে নিয়ে গিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাগুড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তে উঠে আসে একের পর এক তথ্য।
মামলার তদন্তের পর বিষয়টি পৌঁছয় জলপাইগুড়ি বিশেষ পকসো আদালতে। দীর্ঘ শুনানির পর বৃহস্পতিবার অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। মামলায় মোট ৯ জনের সাক্ষ্য এবং বিভিন্ন তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সাজা ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযুক্ত ওই যুবককে যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত করে জলপাইগুড়ি বিশেষ পকসো আদালত। একইসঙ্গে এক লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। জরিমানার টাকা না দিলে অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদালতের নির্দেশে জানানো হয়েছে।
শুধুমাত্র অভিযুক্তের শাস্তিতে থামেনি আদালত। নির্যাতিত ছাত্রীর ভবিষ্যতের কথা বিবেচিত করে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে। ডিস্ট্রিক্ট লিগাল সার্ভিস অথরিটির মাধ্যমে নির্যাতিতা ছাত্রীকে চার লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতিপুরনের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে পৌঁছালো। দুই বছর ধরে চলা আইনি প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনার পর বৃহস্পতিবার সাজা ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের সামনে এলো নাবালিকার নিরাপত্তা এবং অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার গুরুত্ব। টানা দু'বছর অপেক্ষার পর নাবালিকা পেল বিচার। যদিও এই রায় কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে নির্যাতিতার পরিবার।
