কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: বারুইপুর আদালত চত্বরে আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ডিম ছোড়া ও হেনস্তার অভিযোগ। এবার স্বতঃপ্রণোদিত জনস্বার্থ মামলা দায়ের করল কলকাতা হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলায় হস্তক্ষেপ করেছেন।
আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই মামলায় আদালত বান্ধব হিসেবে নিযুক্ত করেছে।
শুক্রবার, প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে বলেন, 'আদালত মনে করে আইনজীবীদের উপর এই আক্রমণ বন্ধ হওয়া দরকার ৷ কালকে এ, বি, সি-কে আক্রমণ করা হবে। এর জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে এই প্রবণতা আরও বাড়বে ৷ তাই স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়েরের এই সিদ্ধান্ত ৷ ইতিমধ্যে বারুইপুর পুলিশ সুপার ও জেলা জজ তাঁদের রিপোর্ট পেশ করেছেন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে ৷'
ঘটনার প্রাথমিক রিপোর্ট চেয়ে পুলিশ সুপারের কাছে তথ্য চেয়েছিল আদালত। সেই রিপোর্ট হাতে আসার পরই স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি গ্রহণ করে হাইকোর্ট। এসপি-র রিপোর্টে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা উঠে এসেছে বলেই আদালত এই পদক্ষেপ করেছে বলে জানা গিয়েছে। মামলার শুনানিতে আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়কে আদালত বান্ধব হিসেবে নিযুক্ত করেছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৭ অক্টোবর।
সম্প্রতি, ব্যাপক উত্তজনা ছড়ায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় কলেজে। পরিচালন সমিতির সভাপতি তথা বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু কলেজে ঢুকতেই তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখালেন SFI ও ISF সমর্থক পড়ুয়াদের একাংশ। বন্ধ করে দেওয়া হল কলেজের মূল গেট । উঠল 'গো ব্যাক' স্লোগান। পালটা কলেজের বাইরে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করলেন ABVP-র সদস্যরা। দুই পক্ষের স্লোগান-পালটা স্লোগানে মুহূর্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে কলেজ চত্বরে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। ঘটনায় দু'পক্ষের বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন বলে খবর ৷ ঘটনায় চার জন গ্রেফতার হয়েছে।
এই ঘটনায় ধৃত এসএফআই কর্মীদের জামিনের সওয়াল করতে বারুইপুর আদালতে যান আইনজীবী তথা বামনেতা সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। দুই ছাত্রের জামিনও মঞ্জুর করে আদালত। এরপরই সায়নকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়। তাঁতে লক্ষ্য করে ডিমও ছোড়া হয়। বারুইপুর আদালত চত্বরে একজন আইনজীবীকে প্রকাশ্যে হেনস্তার অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। আদালত চত্বরে আইনজীবীদের নিরাপত্তা এবং এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা-ও পরবর্তী শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। পুলিশের রিপোর্টের ভিত্তিতেই বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।
