শুরুটা হয়েছিল রাস্তার ধারে আলু-পেঁয়াজ বিক্রি করে। সংসারের চাকা ঘোরাতে কখনও ই-রিকশার হ্যান্ডেল ধরতে হয়েছে, কখনও আবার জাতীয় প্রতিযোগিতায় নাম লেখাতে বিক্রি করে দিতে হয়েছে সেই ই-রিকশাটাই। সেই ঝন্ডু কুমারই শনিবার গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম পদক জিতে লিখলেন অনুপ্রেরণার এক নতুন গল্প। পুরুষদের হেভিওয়েট প্যারা পাওয়ারলিফটিংয়ে ব্রোঞ্জ জিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করলেন বিহারের নালন্দার ২৯ বছরের এই অ্যাথলিট।
জন্ম থেকেই পোলিও আক্রান্ত ঝন্ডুর জীবন ছিল লড়াইয়ে ভরা। ২০১৭ সালে প্যারা অ্যাথলেটিক্স দিয়ে কেরিয়ার শুরু করলেও পরে মন দেন পাওয়ারলিফটিংয়ে। কিন্তু প্রতিভা থাকলেও অর্থের অভাব বারবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ২০২৩ সালের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়ার খরচ জোগাতে নিজের ই-রিকশা পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছিল তাঁকে। সেই প্রতিযোগিতাতেই নজরে পড়েন প্যারালিম্পিক্স ব্রোঞ্জজয়ী রাজিন্দর সিং রাহেলুর। তাঁর তত্ত্বাবধানে এসএআইয়ের গান্ধীনগর কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নিয়ে দ্রুত বদলে যায় ঝন্ডুর কেরিয়ারের মোড়।
গ্লাসগোয় গ্রুপ ‘বি’ থেকে নেমে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ১৯০ কেজি ওজন তুলে ১৩০.৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করেন ঝন্ডু। শেষ প্রচেষ্টায় ১৯৬ কেজি তোলার চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন। তবে অল্পের জন্য সফল হতে পারেননি। তবু ১৯০ কেজির লিফটই শেষ পর্যন্ত তাঁকে এনে দেয় ব্রোঞ্জ। নাইজেরিয়ার রিলুওয়ান ইদ্রিস ২০৮ কেজি তুলে সোনা এবং ইংল্যান্ডের ম্যাথিউ হার্ডিং ১৯৯ কেজি তুলে রুপো জেতেন।
শেষ প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হওয়ার কারণও জানিয়েছেন ঝন্ডু। তাঁর কথায়, “বারবেলটা র্যাকে আটকে গিয়েছিল। তাই টাইমিংয়ে একটু সমস্যা হয়েছিল।” তবে সেই আক্ষেপকে ছাপিয়ে গিয়েছে দেশের হয়ে প্রথম পদক জয়ের আনন্দ। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের পতাকা উড়তে দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি।
পদক জয়ের পর ঝন্ডুর কণ্ঠে ছিল শুধুই কৃতজ্ঞতা আর গর্ব। তিনি বলেন, “ভারতের প্রথম পদক জিততে পেরে খুব ভালো লাগছে। জাতীয় পতাকা দেখলেই গর্ব হয়। এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। প্রথমে বাড়িতে বাবা-মাকে ফোন করব। তারপর গৌতম ভাইয়াকে, যার সঙ্গে ছোটবেলা থেকে অনুশীলন করেছি।” রাস্তার ধারের সংগ্রাম থেকে কমনওয়েলথের পোডিয়াম— ঝন্ডু কুমারের এই সফরই যেন প্রমাণ করে, ইচ্ছাশক্তির কাছে দারিদ্র্যও একসময় হার মানে।




