নিউজ ডেস্ক: দিল্লির রাজপথে রবিবারের সকালটা ছিল অন্যদিনের তুলনায় বেশ আলাদা। কারও মাথায় ফুলে সাজানো মাটির হাঁড়ি, কারও হাতে বাদ্যযন্ত্র। মহিলাদের কন্ঠে লোকগান, পুরুষদের হাতে ঢোল। পুলিশের নজরদারির মধ্যেই এগিয়ে চলেছে এক বিশাল মিছিল। প্রথম দর্শনে কোনও সাংস্কৃতিক উৎসব বলে মনে হলেও, এই জমায়েতের নেপথ্যে ছিল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক দাবি।
রবিবার, ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে I.N.D.I.A জোটের ডাকা 'ভোট চুরি' বিরোধী সমাবেশে যোগ দিতে ঝাড়খন্ড থেকে কয়েকশো আদিবাসী ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ রাজধানীতে আসেন। প্রায় ১৩০০ জনের এই দল রাজঘাটের মহাত্মা গান্ধী মার্গ থেকে মিছিল শুরু করে রামলীলা ময়দানে পৌঁছয়। সন্ধ্যায় ফের রাজঘাটে ফিরে যান তাঁরা। ঝাড়খণ্ডের ভোটার তালিকা বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়ায় বহু মানুষের নাম বাদ পড়ার অভিযোগেই এই প্রতিবাদ।
মিছিলে বিশেষ নজর কেড়েছিলেন মহিলারা। ঝাড়খণ্ডের ঐতিহ্যবাহী লাল সাদা পাড়ের শাড়ি 'পাঞ্চি-পারহান' পড়ে তাঁরা সামিল হন। মাথায় শুকনো ঘাস ও গাঁদা ফুল দিয়ে সাজানো মাটির হাঁড়ি নিয়ে গান গাইতে গাইতে এগিয়ে চলেন। অন্যদিকে, পুরুষদের হাতে ছিল ঢোল,মন্দর ও ভেরির মতো ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র। কুরুক্ষ ভাষায় গান গেয়ে প্রতিবাদের বার্তা ছড়িয়ে দেন ৫০ বছর বয়সী জ্যোতি কুজুর।
ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রী শিলপি নেহা তিরকে এবং কংগ্রেস নেতা বন্ধু তিরকে এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন।শিলপির বক্তব্য, আদিবাসী অধ্যুষিত বহু এলাকার মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সরকারি নথি নেই। ফলে, SIR এর ফর্ম পূরণ এবং পরিচয় প্রমাণের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা। তাঁর প্রশ্ন, যারা এই দেশের আদি বাসিন্দা তাঁদের কেন নিজেদের পরিচয়পত্র প্রমাণ করতে হবে?
মিছিলে তানা ভগৎ সম্প্রদায়ের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। গান্ধী বাহী অহিংসার আদর্শে বিশ্বাসী এই সাম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক বাদ্যযন্ত্র ভেরিও বাজানো হয়। কংগ্রেস কর্মী আজহার আলীর কথায়, মাথায় বহন করা মাটির হাঁড়ি ঐক্যের প্রতীক।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট প্রকাশিত ঝাড়খণ্ডের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ৪৩ লক্ষ ৬১ হাজার ৯৮৭ জনের নাম বাদ পড়েছিল। আগামী ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত দাবি ও আপত্তি নিষ্পত্তির পর ৩০ নভেম্বর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের কথা। প্রতিবাদীদের দাবি, বাদ পড়া সমস্ত বৈধ ভোটারের নাম পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাঁদের স্লোগান, ‘এবার ভোট চুরি চলবে না।’




