নিউজ ডেস্ক: উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি আকাশে একের পর এক কপ্টার দুর্ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা প্রশাসনকে। গত শুক্রবার বদ্রীনাথের অদূরে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পাইলটসহ ৬ জন তীর্থযাত্রীর সলিলসমাধি ঘটেছে। ট্রান্স ভারত এভিয়েশনের ওই চপারটি বদ্রীনাথ থেকে দেরাদুন ফেরার পথেই চামোলি জেলার জোশীমঠ সংলগ্ন এলাকায় ভেঙে পড়ে। বারবার ঘটে চলা এই বিপর্যয় ও প্রাণহানির প্রেক্ষিতে এবার তীর্থযাত্রীদের সুরক্ষায় আপসহীন অবস্থান নিল ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে,একজন চালকের ভরসায় দুর্গম পাহাড়ি রুটে আর কপ্টার ওড়ানো চলবে না, প্রতি ফ্লাইটে দু’জন যোগ্য পাইলট থাকা বাধ্যতামূলক।
নিয়ামক সংস্থার এই নির্দেশ ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। ডিজিসিএ-র কড়া অবস্থানের পালটা হিসেবে কপ্টার পরিচালনাকারী সংস্থাগুলি আগামী ২ নভেম্বর থেকে চারধাম রুটে পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ফলে মরসুমের শেষলগ্নে দাঁড়িয়ে চরম বিপাকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে হাজার হাজার পুণ্যার্থীর।
ডিজিসিএ-র জারি করা সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় সাফ বলা হয়েছে, প্রতিটি চার্টার্ড কপ্টারে দু’জন পাইলট থাকতে হবে এবং কো-পাইলটেরও পাহাড়ি রুটে উড়ান পরিচালনার বিশেষ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকা আবশ্যিক। শুধুমাত্র পাইলটের সংখ্যা বাড়ানোই নয়, প্রতিটি উড়ানের আগে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ও সংশ্লিষ্ট উড়ানপথের সমস্ত প্রশাসনিক অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অবতরণের পর হেলিপ্যাডেই চালককে পেশ করতে হবে বিস্তারিত রিপোর্ট। নিয়ম অমান্য করলে চারধামের আকাশপথে কপ্টার পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
পালটা যুক্তি খাড়া করেছে অপারেটরদের সংগঠনও। তাদের বক্তব্য, পাহাড়ি পথে অভিজ্ঞ ক্রু-এর অভাব অত্যন্ত প্রকট। রাতারাতি প্রতিটি কপ্টারে দু’জন করে বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন পাইলট মোতায়েন করতে গেলে লজিস্টিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে এবং পরিচালন খরচ এক ধাক্কায় আকাশছোঁয়া হয়ে যাবে। এর আর্থিক বোঝা বহন করা কার্যত অসম্ভব।
অপারেটরদের তরফে ইতিমধ্যে ডিজিসিএ এবং উত্তরাখণ্ড সিভিল অ্যাভিয়েশন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির কাছে নির্দেশিকাটি পুনর্বিবেচনার আর্জি জানানো হয়েছে। কার্যকর করার আগে জরুরি ভিত্তিতে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের ডাক দিয়েছেন তাঁরা। সমাধানসূত্র না মিললে ধর্মঘটের পথেই হাঁটতে পারে সংস্থাগুলি।




