নিউজ ডেস্ক: বুলগেরিয়ার রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস তৈরি হতে চলেছে। দেশের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ইলিয়ানা ইয়োতোভা। রবিবার অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটের বুথফেরত সমীক্ষায় এমনই ইঙ্গিত মিলেছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আন্দ্রেই গিউরভকে বড় ব্যবধানে পিছনে ফেলে দিয়েছেন ইয়োতোভা। ইতিমধ্যেই পরাজয় মেনে নিয়েছেন গিউরভ। তবে চূড়ান্ত সরকারি ফল প্রকাশের পরেই নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ছবি স্পষ্ট হবে।
একাধিক বুথফেরত সমীক্ষার প্রাথমিক হিসাব বলছে, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন ইয়োতোভা। অন্যদিকে, পশ্চিমাপন্থী বিরোধীদের সমর্থন পাওয়া প্রাক্তন অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী গিউরভের ঝুলিতে গিয়েছে প্রায় ৩৮ শতাংশ ভোট। ফলাফলের এই ইঙ্গিত সামনে আসার পরেই পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। গিউরভ বলেছেন, ‘বুলগেরিয়ার নাগরিকেরা এই ভাবেই তাঁদের রায় দিয়েছেন।’ অর্থাৎ, ভোটারদের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথাই জানিয়েছেন তিনি।
ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর সোমবার আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা হওয়ার কথা। সেই ফল বুথফেরত সমীক্ষার সঙ্গে মিললে বুলগেরিয়ার ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত মহিলা প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন ৬১ বছর বয়সি ইয়োতোভা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তিনি। তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গী রুমেন রাদেভ পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ইস্তফা দিলে সেই দায়িত্ব পান ইয়োতোভা।
বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক। তবে দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের বক্তব্য এবং অবস্থান যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে। ইয়োতোভা রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার পক্ষে। ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতাও করেছেন তিনি। অন্যদিকে, গিউরভের অবস্থান পশ্চিমাপন্থী। নির্বাচনের আগে দুই প্রার্থীর রাশিয়া-নীতি এবং ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল আলোচনার অন্যতম বিষয়।
নির্বাচনের সময় বুলগেরিয়ার নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি আলোচনায় উঠে আসে। গত মাসে কৃষ্ণসাগরে বুলগেরিয়ার উপকূলের কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে একের পর এক ড্রোন হামলার ঘটনায় এখনও ২১ জন নিখোঁজ। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব থেকেই এই হামলাগুলি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী রাদেভের বক্তব্য, হামলাগুলি মস্কোর স্বার্থ রক্ষা করছে বলেই মনে হচ্ছে। এই ঘটনার পর রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলবও করা হয়েছিল। যদিও বুলগেরিয়ার সরকার জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে মস্কোর সরাসরি যোগ থাকার কোনও প্রমাণ এখনও মেলেনি।




