নিউজ ডেস্ক: নেপালের দুর্গম পার্বত্য এলাকায় ভারী তুষারপাতের জেরে আটকে পড়েছিলেন ছ’জন ভারতীয় পর্যটক। সোমবার সকালে বেসরকারি হেলিকপ্টারে তাঁদের উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া পর্যটকদের মধ্যে দু’জন মহিলা এবং চার জন পুরুষ রয়েছেন। সকলকেই দোলপা জেলার দুনে এলাকার একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁরা এখন বিপদমুক্ত।
নেপালের শে-ফোকসুন্ডো জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। গত ১ নভেম্বর থেকে ওই ছ’জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। দোলপা জেলা পুলিশের মুখপাত্র তথা পুলিশ ইনস্পেক্টর বিনয় সিং জানিয়েছেন, সোমবার সকালে একটি বেসরকারি হেলিকপ্টারের সাহায্যে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। দোলপার মুখ্য জেলা আধিকারিক জুনু ধাকালের বক্তব্য, প্রবল তুষারপাতের কারণে ওই এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ বরফে ঢেকে গিয়েছিল।
পর্যটকেরা শে-ফোকসুন্ডো গ্রামীণ পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ধো এলাকায় গিয়েছিলেন। কাঠমান্ডু থেকে এলাকাটির দূরত্ব প্রায় ৩০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। শে-ফোকসুন্ডো হ্রদ দেখতে যাওয়ার পর ফেরার পথে নুমলা ও ওয়াগলা গিরিপথের কাছে তুষারপাতের মধ্যে আটকে পড়েন তাঁরা। শনিবার থেকেই ওই অঞ্চলে প্রবল তুষারপাত শুরু হয়েছিল। স্থানীয় প্রশাসন এবং বাসিন্দারা আবহাওয়ার অবনতি ও তুষারপাতের আশঙ্কার কথা জানিয়ে পর্যটকদের ওই দুর্গম এলাকায় যেতে নিষেধ করেছিলেন। তা সত্ত্বেও তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রবিবার তাঁদের উদ্ধারের জন্য নেপালের সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সেটি অবতরণ করতে পারেনি। ফলে উদ্ধারকাজ স্থগিত রাখতে হয়। সোমবার আবহাওয়ার পরিস্থিতি কিছুটা অনুকূল হলে বেসরকারি হেলিকপ্টারের সাহায্যে তাঁদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই ভারতীয় পর্যটকরা আপার দোলপা এলাকায় গিয়েছিলেন। দুর্গম পার্বত্য এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অনুমতিপত্রের প্রয়োজন হয়। আবহাওয়া খারাপ থাকলে সেই ধরনের এলাকায় যাত্রা আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
শে-ফোকসুন্ডো হ্রদ নেপালের গভীরতম হ্রদ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩,৬০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই হ্রদের গভীরতা আনুমানিক ১৪৫ মিটার। হিমালয়ের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে বহু পর্যটক এই অঞ্চলে যান। কিন্তু উচ্চতা, দুর্গম পথ এবং দ্রুত আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে সেখানে বিপদের আশঙ্কাও থাকে।
নেপালের হিমালয় অঞ্চলে তুষারপাতের মধ্যে পর্যটকদের আটকে পড়ার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে মুস্তাংয়ের হিডেন ভ্যালিতে ভারী তুষারপাতের জেরে আটকে পড়েছিলেন ১৫ জন ট্রেকার। তাঁদের মধ্যে তিন জন ব্রিটিশ মহিলা ছিলেন। পরে হেলিকপ্টারে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। একই বছরের নভেম্বর মাসে মুস্তাং ও দোলপার সীমান্তের কাছে বরফের মধ্যে আটকে পড়া দুই নেপালি পর্যটককেও হেলিকপ্টারে উদ্ধার করতে হয়েছিল।




