নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই এবার মুখ খুললেন প্রবীণ আইনজীবী তথা সাংসদ কপিল সিবল। রবিবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের বাসভবনে পৌঁছে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “আজই নির্বাচন কমিশনের সত্যিটা মানুষের সামনে তুলে ধরব।” INDIA জোটের দিল্লির রামলীলা ময়দানের প্রতিবাদ সমাবেশের আগে সিবলের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব বিরোধীরা। তাঁদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। ভোটাধিকার রক্ষার পরিবর্তে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা পালন করছে বলেও অভিযোগ তুলেছে বিরোধী শিবির। যদিও এই অভিযোগগুলি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব বক্তব্যও রয়েছে।
শনিবারও খাড়্গের বাসভবনে INDIA জোটের প্রতীকী ‘পাবলিক ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন কপিল সিবল। সেখানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে দাবার বোড়ের সঙ্গে তুলনা করে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী অনিয়মের বিষয়টি শুধু একজন আধিকারিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর বক্তব্য, এর পিছনে আরও বড় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। সংবিধান এবং সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, শনিবারের ওই প্রতীকী কর্মসূচিতে প্রাক্তন লোকসভা স্পিকার মীরা কুমার সভাপতিত্ব করেন। খাড়্গে সেখানে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ছয়টি অভিযোগ তুলে ধরেন। বিরোধী জোটের তরফে নির্বাচন কমিশনের প্রধানের অপসারণ, SIR প্রক্রিয়া বন্ধ এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইনে পরিবর্তনের দাবিও তোলা হয়। তবে এই ‘পাবলিক ইমপিচমেন্ট’ কোনও সাংবিধানিক অভিশংসন প্রক্রিয়া নয়, এটি বিরোধীদের রাজনৈতিক প্রতিবাদ কর্মসূচি।
রবিবারের কর্মসূচিতে রামলীলা ময়দান পর্যন্ত ‘চলো দিল্লি’ মিছিলের পরিকল্পনা রয়েছে। দুপুর ১২টা নাগাদ মিন্টো রোড-কনট প্লেস এলাকা থেকে মিছিল শুরু হওয়ার কথা। এরপর রামলীলা ময়দানে মূল সমাবেশে বিরোধী নেতারা বক্তব্য রাখবেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নিজেদের অবস্থান সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে চাইছে INDIA জোট।
এখন দেখার, কপিল সিবল ঠিক কোন তথ্য ও নথির ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে তাঁর বক্তব্য পেশ করেন এবং সেই বক্তব্যের জবাবে কমিশনের তরফে কী প্রতিক্রিয়া আসে। ভোটার তালিকা বিতর্কে রবিবারের এই সমাবেশ যে নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিতে চলেছে, তা বলাই যায়।




