নিউজ ডেস্ক: কোয়েল মল্লিকের ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভার আসনে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। আগামী ১৬ অক্টোবর ওই আসনে ভোট হবে। ৬ অক্টোবর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। মনোনয়নপত্র যাচাই (স্ক্রুটিনি) হবে আগামী ৭ অক্টোবর। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ আগামী ৯ অক্টোবর। তবে কি এবার বিজেপির টিকিটে মনোনয়ন জমা দেবেন কোয়েলই? এই আসনে কোন দল কাকে প্রার্থী করে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
চলতি বছরের মার্চের শেষের দিকে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। বাবুল সুপ্রিয়, মেনকা গুরুস্বামী, রাজীব কুমারের সঙ্গে তৃণমূলের প্রতীকে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক।
এপ্রিল মাসেই রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন কোয়েল মল্লিক। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে রাজ্যসভায় গিয়েছিলেন তিনি। এরপর রাজ্যে পালাবদল হতেই সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন কোয়েল। তাঁর পদত্যাগের পরই রাজ্যসভার ওই আসনটি শূন্য হয়ে যায়।
শূন্য আসনে উপনির্বাচন করানোর প্রক্রিয়া শুরু করে নির্বাচন কমিশন। সেই মতো ভোটের দিনক্ষণও জানিয়ে দেওয়া হল। বিধায়কদের ভোটে ওই আসনের নতুন সাংসদ নির্বাচিত হবেন। ভোটের আগে মনোনয়ন জমা, মনোনয়নপত্র যাচাই এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য কমিশনের নির্ধারিত সময়সীমা মেনে এগোবে গোটা প্রক্রিয়া। কিন্ত, এখনও পর্যন্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয়নি।
কোয়েল মল্লিকের ইস্তফা ঘিরে অবশ্য আগেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছিল।
কারণ, পদত্যাগের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেছিলেন কোয়েল। তারপরই তাঁর বিজেপিতে যোগের জল্পনা তৈরি হয়।
যদিও কোয়েলের ইস্তফার আগে তৃণমূলের তিন রাজ্যসভার সদস্য সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক নিজেদের পদ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে ওই তিন প্রাক্তন সাংসদ বিজেপির প্রার্থী হিসেবে আবার রাজ্যসভায় নির্বাচিত হন। ফলে কোয়েল মল্লিকও কি একই পথে হাঁটবেন? তা নিয়েই কার্যত উঠেছে একাধিক প্রশ্ন।
অন্যদিকে, অক্টোবর মাস উপনির্বাচন হবে রাজ্যের দুই কেন্দ্রে। তার আগেই দলের নাম-প্রতীক হারিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের দুই শিবিরের লড়াইয়ের ফলে নির্বাচন কমিশন আপাতত তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ করে দিয়েছে। দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ঘিরেও তৃণমূলের দুই শিবির ঋতব্রত ও মমতা তৃণমূলের মধ্যে আইনি লড়াই চলছে।