নিউজ ডেস্ক : বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। সারাটা বছর এই সময়ের অপেক্ষায় থাকেন আপামোর বঙ্গবাসী। কিন্তু এই উৎসবের মাঝেই হঠাৎ মহানগরীর বুকে নেমে এলো শোকের ছায়া। এক নিমেষেই একাধিক প্রাণ কেড়ে নিল চোরবাগান পুজো মন্ডপ। এ পুজো মণ্ডপে গিয়েছিলেন হুগলির বৈদ্যবাটির বাসিন্দা ২৭ বছরের শ্রীপর্ণা পোদ্দার। দুর্ঘটনায় প্রাণ গিয়েছে তাঁর। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে বৈদ্যবাটির ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের মালির বাগান এলাকায়। পরিবারের একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা তাঁর বাবা-মা।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্রীপর্ণা পোদ্দার টাটা ক্যানসার সেন্টারে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শনিবার সকালে কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন শ্রীপর্ণা। পরে বন্ধুদের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে চোরবাগানে যান তিনি। সেখানেই পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে। শ্রীপর্ণার এক বান্ধবীর কাছ থেকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে পৌঁছান।
এই ঘটনাকে ঘিরে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দা হরিদাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, “সকালে আমাকে একটা টোটো ডেকে দিতে বলেছিল। খুব প্রাণচঞ্চল মেয়ে ছিল। আমার ভাইপোর সঙ্গে পড়াশোনা করত। বিএসসি নার্সিং পাশ করে চাকরি করছিল। পাড়ায় কেউ অসুস্থ হলে সবার আগে ও এগিয়ে আসত। ওর এই খবর শুনে আমরা বাকরুদ্ধ।”
এ বিষয়ে শ্রীপর্ণাদের বাড়ির ভাড়াটিয়া রিম্পা দাস জানান, সকালে শ্রীপর্ণা তাঁকে ঠাকুর দেখতে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। রিম্পার কথায়, “রাত নটা নাগাদ খবরটা পাই যে সোনাই আর নেই। আমি বিশ্বাস করতে পারিনি।”
চোরবাগানের দুর্ঘটনায় বৈদ্যবাটির শ্রীপর্ণার মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁর বাড়িতে যান চাঁপদানীর বিধায়ক দিলীপ সিং এবং শেওড়াফুলি ফাঁড়ির পুলিশ। তবে ততক্ষণে শ্রীপর্ণার বাবা-মা কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে চলে যাওয়ায় তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি বিধায়ক।
উৎসবের আনন্দ এক নিমেষে যেন অন্ধকারে পরিণত হল। এই মর্মান্তিক ঘটনা হৃদয় কাঁপিয়ে দিয়েছে সকলের। কর্মজীবনে মানুষের সেবায় নিয়োজিত শ্রীপর্ণার এই আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত তাঁর পরিবার, প্রতিবেশী ও আত্মীয়রা।




